জীবননগরে ২৫ বছরেও ‘ভূতুড়ে’ বিসিআইসি সার ডিলার বহাল থাকার অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে কাগজে-কলমে থাকা ‘ভূতুড়ে’ বিসিআইসি সার ডিলারদের বহাল রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একাধিক সার ব্যবসায়ী।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় কৃষক লাভলু মিয়া জানান, তালিকাভুক্ত কয়েকজন বিসিআইসি সার ডিলারের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়েও তাদের কোনো কার্যক্রম পাওয়া যায়নি। তবুও তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিলার হিসেবে বহাল রয়েছেন।
সার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বাবুল বলেন, “আমি ২০১৭ সালে প্রায় তিন লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে আরও পাঁচ হাজার টাকা জমা দিয়ে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন করি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো নিয়োগ পাইনি।”
বিজ্ঞাপন
তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালের নীতিমালা অনুযায়ী জেলার বাইরে কোনো ব্যক্তিকে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। অথচ তালিকাভুক্ত কয়েকজন ডিলার ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা নন এবং তাদের কোনো দৃশ্যমান ব্যবসায়িক কার্যক্রমও নেই। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে তারা লাইসেন্স নবায়ন করেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপতির এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন করে কিছু ডিলার তালিকাভুক্ত করা হলেও সেখানে পূর্বের বিতর্কিত ডিলারদেরই পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করে অকার্যকর ও ভুয়া ডিলারদের তালিকা বাতিল করতে হবে এবং যোগ্য ও সক্রিয় ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে কোনো ডিলার নিয়োগ বা বরাদ্দ না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, প্রকৃত ডিলার না থাকায় প্রায়ই সার সংকট দেখা দেয় এবং তারা ভোগান্তির শিকার হন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান তারা।








