ভারতে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন রতি জয়ধর

স্ত্রী-সন্তানদের কাছে ভারতে যাওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা রতি জয়ধরের (৪৫)। সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্ত এলাকায় ইছামতি নদী থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্থানীয়রা নদীর পাড়ে দুর্গন্ধ পেয়ে কচুরিপানার নিচে ভাসমান মরদেহটি দেখতে পান।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশ্চিত হন যে মরদেহটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নদীর প্রায় ১০ গজ ভেতরে ভাসছিল। পরে মহেশপুর থানা পুলিশকে জানানো হলে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: জলের শুভ্রতায় রাখাইনদের জলকেলি উৎসব শুরু
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, মরদেহটি তিন থেকে চারদিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। পানিতে পচে ফুলে উঠেছিল এবং উপুড় হয়ে ভাসছিল। দেহে থাকা কাগজপত্রের ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তিকে কোটালীপাড়ার দেবেন্দ্র নাথ জয়ধরের ছেলে রতি জয়ধর হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে নিহতের ভাই রনজিত জয়ধর শুক্রবার সকালে এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
বিজ্ঞাপন
সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী এসআই আলমগীর হোসেন জানান, মরদেহের ঘাড়ের বাম পাশে, ডান পাশের পাঁজরের নিচে এবং পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা গুলির আঘাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে তিনি পানিতে পড়ে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রতি জয়ধরের দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছেন। তার ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করছেন। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে এলাকায়। তিন মাস আগে তার স্ত্রী ও এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোট মেয়ে ভারতে চলে যান। সম্প্রতি গ্রামের জমি-ঘর বিক্রি করে তিন দিন আগে পরিবারের সঙ্গে স্থায়ীভাবে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তার জীবনের শেষ যাত্রা।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার দুপুরে রতি জয়ধরের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তালাবদ্ধ ঘর দেখা যায়। প্রতিবেশী সঞ্জয় বাইন জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে এনে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
রতি জয়ধরের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।








