গভীর রাতে অভিযানে গিয়ে বিপাকে পুলিশ, ‘অন্তরঙ্গ’ অভিযোগে গণপিটুনি

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গভীর রাতে এক মাদক মামলার আসামির বাড়িতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। স্থানীয়দের হাতে আটক হয়ে গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইমরান হাসান (৪০) বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ওই ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি মাদক মামলার সূত্র ধরে ওই এলাকার যুবক মেহেদী হাসানের বাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত ছিল এএসআই ইমরানের। এ ঘটনার জেরে তার সঙ্গে ওই আসামির স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার রাতে ইমরান হাসান সাদা পোশাকে মেহেদীর বাড়িতে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করে। পরে তাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই পুলিশ কর্মকর্তা পুলিশের পোশাকে ছিলেন না; প্যান্ট-টিশার্ট পরিহিত অবস্থায় তাকে মারধর করা হচ্ছে। তার মাথায় কাপড় বাঁধা এবং মুখে রক্তের দাগ দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই আমার ভাই না, মারিস কেন?’ এছাড়া তার কাছে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর প্যাকেট পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা। তার দাবি, তিনি মাদক মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু কেন গভীর রাতে একা এবং সাদা পোশাকে অভিযানে যান—এ প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি তিনি।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসানের অভিযোগ, তার অনুপস্থিতির সুযোগে এএসআই ইমরান দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি প্রমাণের জন্য অডিও ও ভিডিও রেকর্ডও সংগ্রহ করেছিলেন। ঘটনার রাতে ইমরান তাদের ঘরে প্রবেশ করলে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাদক মামলার আসামিকে ধরতে গেলে তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর করে। তবে পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। কেন ওই কর্মকর্তা গভীর রাতে একা ও সাদা পোশাকে অভিযানে গিয়েছিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে পুলিশের বক্তব্য, অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ—দুইয়ের মধ্যে বিরোধ থাকায় পুরো বিষয়টি এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।








