বাল্যবিবাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে থানায় ছুটে গেল শিক্ষার্থী

আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা শুরুর প্রাক্কালে বাল্যবিবাহের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৮ এপ্রিল) পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামে।
বিজ্ঞাপন
জানা যায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা আলম হাওলাদারের মেয়ে তহমিনা আক্তার স্থানীয় জিয়ানগর সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের একজন মেধাবী এসএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি চলতি বছরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে হঠাৎ করে তার বিয়ে ঠিক করা হলে বিপাকে পড়েন তিনি।
প্রথমে পরিবারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেও কোনো সমাধান না পেয়ে তহমিনা বাধ্য হয়ে দুই দফায় ইন্দুরকানী থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেন।
বিজ্ঞাপন
সহপাঠীদের মতে, তহমিনা একজন মনোযোগী ও মেধাবী শিক্ষার্থী, যার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারত। তারা জানান, বাল্যবিবাহ তার পড়াশোনা ও জীবনের লক্ষ্যকে ব্যাহত করবে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা তার পাশে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের ধারণা, পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণেই হয়তো তাড়াহুড়া করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে তারা মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই একটি মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক হতে পারে না।
তহমিনা নিজেও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি এখন বিয়ে করতে চান না। তার ভাষায়, সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, তাই তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান। এ কারণেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, তার বাবা দাবি করেছেন মেয়ের বয়স প্রাপ্তবয়স্ক এবং একটি ভালো প্রস্তাব পাওয়ায় তারা বিয়ের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, এতে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাকির হোসেন বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যাতে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে তারা সচেষ্ট। তহমিনার পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিম হাওলাদার জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে আলোচনা করা হয়েছে। অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে যে, তহমিনার বাল্যবিবাহ দেওয়া হবে না। পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, তহমিনার এই সাহসী পদক্ষেপ অন্যদের জন্যও একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।








