লোডশেডিংয়ের জাঁতাকলে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট ও তীব্র গরমের মধ্যে আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা। গুরুত্বপূর্ণ এই সময়েই সারাদেশে চলমান ব্যাপক লোডশেডিংয়ের কারণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা।
বিজ্ঞাপন
শহর থেকে শুরু করে গ্রাম—সব জায়গাতেই দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময়, যখন শিক্ষার্থীরা মূলত পড়াশোনা করে, তখনই বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন। শুধু চট্টগ্রাম জেলা থেকেই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৯২ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী। এই বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী এখন বিদ্যুৎ সংকটে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ হারিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকছে অনেক এলাকায়। বিশেষ করে রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অনলাইন ক্লাস, রিভিশন কিংবা গ্রুপ স্টাডি—সবকিছুই প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
নগরীর অপর্ণাচরণ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী নাছরিন জানান, রাতে পড়তে বসার পরই প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যায়। তীব্র গরমে চার্জার ফ্যানও দীর্ঘ সময় কাজ না করায় পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বদিরুজ্জামান স্মৃতি শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থী রিজভী জানান, বিদ্যুৎ খুবই অনিয়মিত। কখনো এলে কিছুক্ষণ পরই আবার চলে যায়, ফলে পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা রাখা যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
অভিভাবকরাও এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পরীক্ষার ঠিক আগে এমন বিদ্যুৎ সংকট শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং পরীক্ষার ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের মোট ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এনলিমা, জুডিয়াক, জুলধা-২ ও ৩, রাউজান ১ ও ২ এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্টসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম স্কাডা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান বলেন, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সাময়িকভাবে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষার আগে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা, যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ব্যাহত না হয়।








