Logo

স্বামীর কবরের পাশে দুই সন্তান নিয়ে আশ্রয়হীন স্ত্রীর আর্তনাদ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর
২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:২৩
স্বামীর কবরের পাশে দুই সন্তান নিয়ে আশ্রয়হীন স্ত্রীর আর্তনাদ
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক হৃদয়বিদারক মানবিক পরিস্থিতির জন্ম হয়েছে, যেখানে স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন এক নারী। শেষ পর্যন্ত কোথাও ঠাঁই না পেয়ে স্বামীর কবরের পাশেই বসবাসের মতো অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনিয়া বেগম নামে ওই নারী তার ৯ বছর বয়সী মেয়ে ছোঁয়া এবং ১৮ মাস বয়সী ছোট ছেলেকে নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে অবস্থান করছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় তিনি এখন মানবিক সহায়তার আশায় দিন গুনছেন।

সোনিয়ার স্বামী সুজন মাহমুদের মৃত্যুর পর থেকেই তার জীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ। তার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর শোক সামলানোর আগেই তিনি আরও বড় সংকটে পড়েন—শ্বশুরবাড়িতে তার ও সন্তানদের আর জায়গা নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

সোনিয়ার দাবি, তার শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি তাকে এবং সন্তানদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকি স্বামীর দাফনের সময়ও শ্বশুর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়া সোনিয়াকে প্রথমদিকে স্থানীয় এক বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের পরিবার মানবিক কারণে আশ্রয় দিলেও পরবর্তীতে আইনি জটিলতার আশঙ্কায় সেটি স্থায়ী হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে স্বামীর কবরের পাশেই অবস্থান নিতে হয় তাকে।

কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বাবার জন্য ছোট্ট ছোঁয়ার কান্না উপস্থিত মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ১৮ মাস বয়সী শিশুটি পরিস্থিতি পুরোপুরি না বুঝলেও মায়ের অসহায়তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সোনিয়া বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তার কোনো আশ্রয় নেই। দুই সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাবেন, তা জানেন না। শ্বশুরবাড়িতে থাকার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর সহানুভূতি তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পারিবারিক বিরোধ ভুলে অন্তত শিশুদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্যদের এগিয়ে আসা উচিত ছিল। কিন্তু বাস্তবে তারা অনিশ্চয়তা ও অবহেলার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—এভাবে একটি অসহায় পরিবার সমাজের সামনে আশ্রয়হীন হয়ে থাকবে কি না।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মীরা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, সোনিয়া ও তার সন্তানদের আইনি অধিকার নিশ্চিত করে নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা করা জরুরি।

এদিকে নিহত সুজনের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ দেখান।

বিজ্ঞাপন

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা চলছে। সমঝোতা সম্ভব না হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD