Logo

কিস্তির টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কলাপাড়া, পটুয়াখালী
২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৬
কিস্তির টাকা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ক্ষুদ্রঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (দুপুর ১২টার দিকে) উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের গণ্ডামারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী খাইরুন বেগমের স্বামী নজির মোল্লা গত বছর ডিসেম্বর মাসে এনজিও থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমান। তবে বিদেশে গিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এখনো তিনি কোনো অর্থ দেশে পাঠাতে পারেননি। ফলে তিন সন্তানসহ অন্তঃসত্ত্বা খাইরুন বেগম মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। এরই মধ্যে কিস্তির টাকা আদায়ে প্রতি সপ্তাহে তার বাড়িতে যাতায়াত করছিলেন এনজিও কর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শনিবার দুপুরে ধানখালী শাখার ম্যানেজার মনির হোসেনসহ কয়েকজন কর্মী তার বাড়িতে এসে বকেয়া কিস্তি পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এ সময় তিনি প্রবাস থেকে টাকা এলেই পরিশোধ করবেন বলে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অফিসে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে টাকা আদায়ের হুমকি দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে গৃহবধূ তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বললে ম্যানেজার তার চুল ধরে টেনে বাইরে বের করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় অন্যান্য নারী কর্মীরাও তাকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বমি শুরু হলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার জানান, তার পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রামে চার মাসের ভ্রূণ সুস্থ থাকলেও তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য মালা বেগম বলেন, “অন্তঃসত্ত্বা একজন নারীর ওপর এমন নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” ভুক্তভোগীর স্বজনরাও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

তবে অভিযুক্ত ম্যানেজার মনির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা তাকে অফিসে আসতে বলেছি, কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি।”

বিজ্ঞাপন

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD