তীব্র গরমে ফিরেছে হাতপাখার কদর, লোডশেডিংয়ে স্বস্তির ভরসা

প্রচণ্ড গরম ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় আবারও বেড়েছে হাতপাখার কদর। একসময় গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে দেখা মিললেও আধুনিক বৈদ্যুতিক পণ্যের দাপটে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী এখন আবার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্লাস্টিকের তৈরি হাতপাখার পাশাপাশি তালপাতার তৈরি হাতপাখার চাহিদাও বেড়েছে। বিশেষ করে দুপুর ও রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকলে গরমে অতিষ্ঠ মানুষ এখন হাতপাখার ওপরই নির্ভর করছেন।
একসময় বিদ্যুৎবিহীন গ্রামাঞ্চলে বাতাস করার একমাত্র উপায় ছিল হাতপাখা। সন্ধ্যার পর উঠানে বসে গল্প করা কিংবা ঘুমানোর সময় হাতপাখা ছিল অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। সময়ের সঙ্গে বৈদ্যুতিক ফ্যান, এসি ও কুলারের ব্যবহার বাড়লেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পুরোনো অভ্যাস আবার ফিরে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, “দিন-রাতে এত লোডশেডিং হচ্ছে যে ফ্যান ছাড়া থাকা কঠিন। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হয়। এখন হাতপাখাই ভরসা, রান্নাঘরেও এটি ব্যবহার করতে হচ্ছে।”
আশি বছর বয়সী আলমাছ খাতুন বলেন, “আগে তো সারাজীবন হাতপাখা দিয়েই কাটিয়েছি। তখন বিদ্যুৎ ছিল না। এখন আবার সেই দিন ফিরে এসেছে মনে হচ্ছে।”
ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে হাতপাখার বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী কবির আহমদ বলেন, “আগে হাতপাখার চাহিদা কম ছিল, এখন প্রতিদিন অনেক মানুষ কিনতে আসছেন।”
বিজ্ঞাপন
পেকুয়া বাজারের এক ব্যবসায়ী ছাদেক জানান, ফ্যান, চার্জার ফ্যান ও আইপিএসের চাহিদাও বাড়ছে, তবে সবার পক্ষে সেগুলো কেনা সম্ভব না হওয়ায় কম দামের হাতপাখাই অনেকের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থী রোহান জানায়, “রাতে পড়তে বসলে বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন এক হাতে বই আর অন্য হাতে হাতপাখা নিয়ে পড়তে হয়।”
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর এরফান বলেন, “তাপদাহে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।”
স্থানীয়দের মতে, আপাতত তীব্র গরমে স্বস্তির সহজ সমাধান হয়ে উঠেছে হাতপাখা। তবে তারা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।








