দাফনের পর মিলল পরিচয়, রহস্যে ঘেরা আফগান নাগরিকের মৃত্যু

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তসংলগ্ন ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। ১১ দিন পর জানা যায়, নিহত ব্যক্তি আফগানিস্তানের নাগরিক হাশমত মোহাম্মাদি।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান। বর্তমানে নিহতের পরিবারের সদস্যরা থানায় অবস্থান করছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৩ এপ্রিল ইছামতি নদীতে একটি মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবি ও পুলিশকে খবর দেয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে আঙুলের ছাপ নিয়েও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে গণ্য করে ১৪ এপ্রিল আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মরদেহের ছবি দেখে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ভাই মোহাম্মদ ইরা নিশ্চিত করেন, এটি তার ভাই হাশমতের মরদেহ। তিনি জানান, হাশমত দীর্ঘদিন ইতালিতে বসবাস করতেন এবং রত্নপাথর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে ভারতে ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হলেও পরে বেকসুর খালাস পান।
পরবর্তীতে ‘মাসুদ’ নামের এক বাংলাদেশির মাধ্যমে সীমান্তপথে বাংলাদেশ হয়ে পুনরায় ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। গত ১০ এপ্রিল তারা যাত্রা শুরু করেন। ১১ বা ১২ এপ্রিল তিনি ফোনে জানান, ইছামতি নদী পার হলেই বাংলাদেশে প্রবেশ করবেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কয়েকদিন পর ‘মাসুদ’ নামের ওই ব্যক্তি ফোনে হাশমতের মৃত্যুর খবর জানিয়ে দুটি ছবি পাঠায় এবং পরে তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই টিপু সুলতান জানান, মরদেহে প্রাথমিকভাবে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘মাসুদ’ নামের ব্যক্তিকে শনাক্তে তদন্ত চলছে।
সীমান্তপথে অবৈধ যাতায়াত, বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু এবং রহস্যজনক যোগাযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য স্পষ্ট হচ্ছে না।








