Logo

ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা হত্যা, জুয়ার টাকার জন্য নৃশংসতা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ধামরাই, ঢাকা
২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:১৮
ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা হত্যা, জুয়ার টাকার জন্য নৃশংসতা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় অনলাইন জুয়ার আসক্তি থেকে টাকা না পেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদা আক্তার (১৬)কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শামীম ওরফে স্বপন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ধামরাই থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান।

পুলিশ জানায়, গত ২৩ এপ্রিল বিকেলে ধামরাই পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেনের বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। আটক শামীম ওরফে স্বপন সাভারের আশুলিয়ার রহিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন।

নিহত নাহিদা আক্তার লাকুড়িয়াপাড়ায় তার নানীর সঙ্গে বসবাস করতেন। তিনি ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুল-এর বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী ছিলেন এবং চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। পরিবারের তথ্যমতে, তার মা প্রবাসে এবং বাবা বরিশালে অবস্থান করছেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার দিন বিকেলে নাহিদার নানী দুধ কিনতে বাইরে গেলে তিনি বাসায় একা ছিলেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ফিরে এসে দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে ঢুকে নাতনিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের ভাষ্যমতে, পূর্বপরিচিত হওয়ায় অভিযুক্ত শামীম দরজায় কড়া নাড়লে নাহিদা সরল বিশ্বাসে দরজা খুলে দেন। একপর্যায়ে শামীম তার কাছে টাকা ধার চান। এতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে নাহিদার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে রান্নাঘরের মেঝেতে ফেলে দেন। পরে সঙ্গে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা ও বুকে আঘাত করেন। এমনকি মৃত্যু নিশ্চিত করতে সিল-পাটা দিয়ে মাথা ও কপালে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন।

বিজ্ঞাপন

হত্যার পর অভিযুক্ত নাহিদার স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের কানের দুল, ১ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন এবং ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি আংটি খোয়া গেছে।

ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ শামীমকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে নিহতের কানের দুল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিল-পাটা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি ধামরাইয়ের শরীফবাগ এলাকার নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সেটি উদ্ধারে ডুবুরি দিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

বিজ্ঞাপন

ওসি মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অনলাইন জুয়ার আসক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন স্থানে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। টাকার জন্য মরিয়া হয়ে তিনি প্রতিবেশী এই শিক্ষার্থীকে টার্গেট করেন এবং শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ড ঘটান।

তিনি আরও বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ার আগ্রাসন সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সহজেই এ ধরনের আসক্তি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা জরুরি।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD