বর্জ্যের বিষে অবরুদ্ধ জনজীবন, সোনাইমুড়ীতে জনস্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা

সোনাইমুড়ী পৌর এলাকার একটি আবাসিক অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ও দূষণের কারণে নীরব জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
চারদিকে ছড়িয়ে থাকা পৌর বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধের পাশাপাশি হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলে রাখা হচ্ছে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে তা পোড়ানো হচ্ছে। এতে পুরো এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। বাতাসে সারাক্ষণ পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে থাকছে, আর ঘরের ভেতরে মাছির উপদ্রবও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যে স্থানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে তা একটি জনবহুল ফোরলেন সড়কের পাশে অবস্থিত। এতে পথচারী ও স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বাড়ির ভেতরে থাকা যায় না, মাছির উপদ্রব আর দুর্গন্ধে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। খাওয়া-দাওয়াও কষ্টকর।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলা ও পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাস মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষ করে হাসপাতালের বর্জ্য পোড়ানো হলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা যেন “বিনা দোষে শাস্তি” ভোগ করছেন। শিশুদের মধ্যে অসুস্থতা বাড়ছে এবং নিরাপদভাবে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নিয়ম অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও হাসপাতালের বর্জ্য পৃথকভাবে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, হাসপাতালের বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।








