১৫ ঘণ্টার মধ্যেই আবার বন্ধ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র আবারও অচল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ মেরামতের পর উৎপাদনে ফেরার মাত্র ১৫ ঘণ্টার মাথায় নতুন করে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হঠাৎ করেই বয়লারের টিউব বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম এই ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কেন্দ্রটির সব ইউনিটের কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। এতে উত্তরাঞ্চলের অন্তত আটটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা জনজীবন ও শিল্পকারখানায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে গত বুধবার রাতের দিকে কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে আসার কারণে কেন্দ্রটির বয়লারের পাইপ ফেটে যায় এবং কুলিং ফ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনার পর টানা ৪৮ ঘণ্টা মেরামতের কাজ চালানো হয়। অবশেষে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উৎপাদন পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়। তবে সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি; উৎপাদন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
বিজ্ঞাপন
কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, বয়লারের টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইউনিটটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বয়লারের ভেতরের বাষ্প ঠান্ডা করার কাজ চলছে, যা সময়সাপেক্ষ। তিনি জানান, পুরো মেরামত কাজ সম্পন্ন করে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগতে পারে।
বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পুনরাবৃত্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি উদ্যোগ ও মানসম্মত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা।








