চিকিৎসাহীনতায় বিছানায় কাতরাচ্ছেন ধুনটের বৃদ্ধ ছবদের আকন্দ

বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের এক কোণে ভাঙাচোরা একটি ঘরে চিকিৎসাহীন অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ ছবদের আকন্দ।
বিজ্ঞাপন
একসময় স্বাবলম্বী কৃষক হিসেবে পরিবার চালালেও এখন বার্ধক্য ও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ চৌচালা ঘরের ভেতরে নিঃশব্দে দিন কাটছে এই বৃদ্ধের। শারীরিকভাবে এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে শরীরে শুধু হাড়ের কাঠামোই যেন দৃশ্যমান। তীব্র গরমেও নেই কোনো স্বস্তির ব্যবস্থা, নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।
বিজ্ঞাপন
তার পাশে রয়েছেন স্ত্রী জোবেদা বেগম, যিনি নিজেও অসুস্থ। চোখেমুখে ক্লান্তি আর অসহায়ত্বের ছাপ স্পষ্ট। তিনি জানান, “এক বছর আগে পেটে সমস্যা নিয়ে অপারেশন করানো হয়েছিল। পরে আবার অ্যাজমা ধরা পড়ে। চার মাস ধরে বিছানায় পড়ে আছে। ওষুধ কেনার টাকা নেই, ঠিকমতো খাওয়ারও ব্যবস্থা করতে পারি না। অনেক সময় একবেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়।”
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছবদের আকন্দের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেরা দিনমজুর হিসেবে কাজ করলেও নিজেদের সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে বাবার চিকিৎসার খরচ বহন করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শুরুতে কিছু চিকিৎসা করালেও দীর্ঘদিন ব্যয় বহন করতে গিয়ে তারাও এখন নিঃস্বপ্রায়।
ছোট মেয়ে মাঝে মধ্যে খাবার নিয়ে এলেও নিজের সংসারের সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত সহায়তা করতে পারছেন না। প্রতিবেশীরাও সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করছেন, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
বিজ্ঞাপন
অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ থাকায় ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এই অসহায় বৃদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে ছবদের আকন্দের পরিবার সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবান মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।
পরিবারটির আশা—মানবিক সহায়তা পেলে অন্তত জীবনের শেষ সময়ে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে এই বৃদ্ধের। মানবতার এই কঠিন সময়ে সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষের সহায়তাই হতে পারে তাদের একমাত্র ভরসা।








