Logo

ফুয়েল কার্ডে স্বস্তি, হিলি পাম্পে উধাও বাইকারদের দীর্ঘ লাইন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
দিনাজপুর
২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:৪১
ফুয়েল কার্ডে স্বস্তি, হিলি পাম্পে উধাও বাইকারদের দীর্ঘ লাইন
ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ভোক্তা ও মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে।

বিজ্ঞাপন

একসময় যেখানে তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের চিত্র, সেখানে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। পাম্পে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকায় আগের মতো আর দেখা যাচ্ছে না বাইকারদের দীর্ঘ লাইন বা হুড়োহুড়ি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে হিলি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও যেখানে এক থেকে দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে মোটরসাইকেলের সারি ছিল, এখন সেখানে অনেকটাই নিরিবিলি পরিবেশ বিরাজ করছে। ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত গ্রাহকদের নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের মতে, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে শুধু তেল সরবরাহে শৃঙ্খলাই ফেরেনি, কমেছে কালোবাজারি ও অতিরিক্ত চাপও। ফলে সাধারণ গ্রাহকরা এখন অনেক বেশি স্বস্তিতে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন।

মোটরসাইকেল চালক হাসান আলীসহ একাধিক বাইকার জানান, আগে তেল নিতে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। অনেক সময় দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যেত না। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিও পোহাতে হতো। এখন ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার কারণে দ্রুত ও সহজে তেল পাওয়া যাচ্ছে, নেই আগের মতো হট্টগোল বা বিশৃঙ্খলা।

অন্য এক বাইকার বলেন, “আগে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হতো। এখন নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সহজেই পাওয়া যাচ্ছে, সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমেছে।”

বিজ্ঞাপন

হিলি আলীহাট ইউনিয়নের সাদুরিয়া এলাকায় অবস্থিত হিলি ফিলিং স্টেশনের শ্রমিক জাকির হোসেন জানান, আগে সরবরাহের দিনে প্রায় তিন হাজার লিটার পেট্রল একদিনেই বিক্রি হতো। বর্তমানে একই পরিমাণ তেল বিক্রি করতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগছে, যা অতিরিক্ত চাপ কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পাম্পের ম্যানেজার বলেন, নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ থাকায় বর্তমানে কোনো সংকট নেই। ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার ফলে প্রকৃত ভোক্তারা সুবিধা পাচ্ছেন এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এসেছে।

বিজ্ঞাপন

হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। ভোক্তারা সুশৃঙ্খলভাবে তেল সংগ্রহ করছেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে সংকট, ভোগান্তি ও অনিয়ম আরও কমে আসবে। হিলি ফিলিং স্টেশনের বর্তমান স্বাভাবিক পরিবেশ সেই ইতিবাচক পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD