চুরি করতে গিয়ে খাটের নিচে ঘুমিয়ে পড়লো চোর অতঃপর…

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে চুরি করতে গিয়ে এক চোরের অদ্ভুত কাণ্ডে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বাসায় ঢুকে খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন তিনি, পরিকল্পনা ছিল সবাই ঘুমিয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে চুরি করে পালিয়ে যাবেন। কিন্তু অপেক্ষা করতে করতে নিজেই ঘুমিয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। পরে ভোরে তার একটি হাত খাটের বাইরে বেরিয়ে আসায় বিষয়টি ধরা পড়ে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পেন্নাই গ্রামের বারেক কন্ট্রাক্টর বাড়িতে। স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি দালানের খাটের নিচে শুয়ে আছেন এক ব্যক্তি। খাটের ওপর মশারির ভেতরে একটি শিশু ঘুমাচ্ছে। খাটের নিচে ঘুমিয়ে পড়া সেই ব্যক্তিকে ডেকে হয়রান হচ্ছেন কয়েকজন। এ সময় উপস্থিত একজন সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে তা ফেসবুকে পোস্ট করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই চোরের নাম মো. সোহেল। তিনি পাশের মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দা। দাউদকান্দি উপজেলার বারোপাড়া ইউনিয়নের ইছাপুরা এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।
গত রবিবার রাতে দাউদকান্দির দক্ষিণ পেন্নাই গ্রামের বারেক কন্ট্রাক্টর বাড়িতে দোতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি বাসার রান্না ঘরের এক্সহস্ট ফ্যান কেটে সেখান দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। ওই ভাড়া বাসায় এক নারী তার দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। চোর সোহেল বাসাটিতে প্রবেশ করে ঘরের লোকজন সজাগ আছে দেখতে পেয়ে খাটের নিচে গিয়ে লুকিয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তিনি সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন।
ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে ওঠেন সেই নারী। এ সময় খাটের বাইরে একটি হাত পড়ে থাকতে দেখে তিনি চিৎকার করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দেখেন খাটের নিচে ঘুমিয়ে আছেন চোর। পরে তাকে অনেক চেষ্টা করে খাটের নিচ থেকে ঘরের বাইরে নিয়ে বেঁধে রাখেন। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে মারধর করে ছেড়ে দেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ওই ব্যক্তি বাড়ির বাইরের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে রান্নাঘরের এক্সহস্ট ফ্যান কেটে প্রবেশ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে মাদকসেবী বলে স্বীকার করেছেন এবং চুরি করতে যাওয়ার আগে নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলেও জানান। সম্ভবত এ কারণেই তিনি খাটের নিচে লুকিয়ে থাকার সময় ঘুমিয়ে পড়েন। তাকে জাগাতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে; শেষ পর্যন্ত মাথায় পানি ঢেলে তাকে জাগানো হয়।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন








