Logo

শেরপুর পৌরসভায় বকেয়া বেতন নিষ্পত্তির দাবিতে কর্মবিরতি

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শেরপুর, বগুড়া
২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২০:২৯
শেরপুর পৌরসভায় বকেয়া বেতন নিষ্পত্তির দাবিতে কর্মবিরতি
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকজনের ৩০ মাস, আবার কারও ৪৮ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিনের এ বকেয়া পরিশোধের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

পৌরসভার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, পূর্বের বেতন বকেয়া থাকলেও প্রশাসক নিয়োগের পর থেকে নিয়মিত বেতন দেওয়া হচ্ছে। তবে পুরোনো বকেয়া নিষ্পত্তি না হওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন। পৌরসভায় বর্তমানে ৩২ জন স্টাফ কর্মরত আছেন, এর মধ্যে ৮ জন এলপিআরে (অবসর-উত্তর ছুটি) গেছেন।

পৌর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী গত চৈত্র মাসের মধ্যেই শেরপুরের বারদুয়ারী হাটের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। চলতি অর্থবছরে হাটটির ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৮৪ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ে দরপত্র আহ্বান করা হলেও কেউ অংশ নেয়নি। ফলে বৈশাখের শুরু থেকে পৌরসভার কর্মচারীদের মাধ্যমে খাস আদায়ের কথা ছিল।

বিজ্ঞাপন

তবে কর্মচারীদের অভিযোগ, হাটে ইজারা না থাকলেও নিয়মিত খাজনা আদায় করা হচ্ছে, কিন্তু সেই অর্থ থেকে বকেয়া বেতন সমন্বয় করা হচ্ছে না। এতে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মী আফরোজা বেগম বলেন, ‘একদিকে বেতন বকেয়া, অন্যদিকে ইজারা ছাড়াই খাজনা আদায় হচ্ছে। কারা আদায় করছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।’

এমএলএসএস ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন হাট ও টার্মিনাল থেকে বছরে প্রায় তিন কোটি টাকা রাজস্ব আসে। আমার ৪৮ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনার জন্য প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি।’

বিজ্ঞাপন

সোমবার সরেজমিনে বারদুয়ারী হাটে গিয়ে খাজনা আদায়ের বিষয়টি দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত খাজনা নেওয়া হচ্ছে।

কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন বসা দোকান থেকেও খাজনা নেওয়া হয়। মাছ ব্যবসায়ী শাহিন আলম জানান, সোমবার ৩০ টাকা ও বৃহস্পতিবার ৪০ টাকা করে খাজনা দিতে হয়। আরেক ব্যবসায়ী আলম শেখ বলেন, আগে যারা খাজনা নিত তারা এখন আসে না, নতুন একজন এসে আদায় করছেন।

মুদিদোকানি টিংকু সাহা অভিযোগ করেন, হাট ইজারা না হলেও তার কাছ থেকে নিয়মিত ১৫০ টাকা করে খাজনা নেওয়া হচ্ছে। পান দোকানি মদন কুমার চাকী বলেন, প্রতি হাটে তার কাছ থেকে দুইবার খাজনা নেওয়া হচ্ছে, যা তিনি অযৌক্তিক মনে করেন।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীদের দাবি, স্থানীয় সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তির লোকজন এসব খাজনা আদায় করছে। তবে সোহেল রানা বলেন, তিনি ইজারাদার নন; পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেই খাস আদায় করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমরোজ মুজিব বলেন, গত অর্থবছরের মতো এবারও খাস আদায়ের কথা ছিল, তবে বর্তমানে কীভাবে আদায় হচ্ছে, তা তার জানা নেই।

বিজ্ঞাপন

পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, বর্তমানে সবার নিয়মিত বেতন দেওয়া হচ্ছে। কর্মচারীরা আগের বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি করছেন।

তিনি জানান, রাস্তার ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ পাওয়া প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা থেকে কিছু বকেয়া সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া হাটের ৫২ লাখ টাকা বকেয়া থাকায় মামলা করা হয়েছে, যা চলমান।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ‘টেন্ডারে কেউ অংশ না নেওয়ায় কর্মচারীদের মাধ্যমে খাস আদায়ের কথা ছিল। তবে তারা কর্মবিরতিতে থাকায় সোমবার আদায় হয়নি। অন্য কেউ আদায় করে থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD