অনিয়মের মাস্টার উজিরপুর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাইদুল বদলি

দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক বিতর্ক, অনিয়মের অভিযোগ, অবৈধ ক্লিনিক সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগসহ তীব্র জনসমালোচনার পর অবশেষে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএন্ডএফপিও) ডা. এস এম মাইদুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। তাঁর এই বদলিকে স্বস্তির নিঃশ্বাস হিসেবে দেখছেন উপজেলার অনেক বাসিন্দা।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৫ জুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে তাঁকে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার তারাবুনিয়া ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডা. সুমন কুমার পোদ্দারকে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ইউএইচএন্ডএফপিও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা. মাইদুল ইসলামের দায়িত্বকালে উজিরপুরে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের যেন রমরমা ব্যবসা গড়ে ওঠে। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালালেও কার্যকর অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। বরং মাসোহারার বিনিময়ে কিছু প্রতিষ্ঠানকে পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরেছে।
বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় পশ্চিম সাতলার ‘মায়ের দোয়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অপচিকিৎসা, অনিয়ম এবং রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ জাতীয় গণমাধ্যমেও উঠে আসে। দৈনিক জনবাণীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারের পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হয় উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের ভূমিকা।
আরও পড়ুন: শরণখোলায় গভীর রাতে ইজিবাইকে আগুন
শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতের জবাবদিহিতা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। যদিও ডা. এস এম মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, তাঁর বদলির সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই অনেক স্থানীয় বাসিন্দা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, নতুন কর্মকর্তা ডা. সুমন কুমার পোদ্দারের নেতৃত্বে উজিরপুরের স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরবে, অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালিত হবে এবং সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা ফিরে পাবে।








