Logo

জীবননগরে বৈরী আবহাওয়ায় পাকা ধান ঘরে তুলতে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা
২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:০৫
জীবননগরে বৈরী আবহাওয়ায় পাকা ধান ঘরে তুলতে দুশ্চিন্তায় চাষিরা
ছবি: প্রতিনিধি

জীবননগর উপজেলায় দিগন্তজুড়ে সোনালি বোরো ধানে ভরে উঠেছে মাঠ। ভালো ফলনের আশায় মুখে হাসি থাকলেও হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ায় সেই হাসি এখন দুশ্চিন্তায় পরিণত হয়েছে কৃষকদের।

বিজ্ঞাপন

ঝড়-বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে পাকা ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির ধান কাটা উপযোগী হয়ে উঠলেও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণে মাঠে নামতে পারছেন না কৃষকরা।

অনেকেই ইতোমধ্যে ধান কেটে মাঠে রেখেছেন, কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে সেই ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উথলী ইউনিয়নে ঝড়-বৃষ্টির কারণে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোথাও পাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, আবার নিচু জমিতে কেটে রাখা ধান পানিতে ভাসতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

পৌর এলাকার নারায়ণপুর গ্রামের তরুণ কৃষক মিঠুন মাহমুদ বলেন, দুইদিন আগে রোদ দেখে ধান কেটে মাঠে রেখেছিলাম। এখন আবার টানা খারাপ আবহাওয়ার খবর পাচ্ছি। বাধ্য হয়ে ধানের শীষের আগা কেটে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

মনোহরপুর গ্রামের কৃষক আকিমুল ইসলাম বলেন, ধান পুরোপুরি পেকে গেছে, কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় কাটতে পারছি না। বেশি পেকে গেলে ধান ঝরে পড়ে, ফলে ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে অনেক কৃষকই মাঠে পাকা ধান রেখে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। আকাশে মেঘ জমলেই তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হচ্ছে।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, এ বছর উপজেলায় মোট ৭ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এখনো পুরোদমে ধান কাটা শুরু হয়নি। সাধারণত ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে কাটার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। আমরা নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD