Logo

সন্ত্রাসী হামলা নয়, স্ত্রী-সন্তানই কুপিয়ে হত্যা করে প্রবাসীকে

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
২ মে, ২০২৬, ১৬:২২
সন্ত্রাসী হামলা নয়, স্ত্রী-সন্তানই কুপিয়ে হত্যা করে প্রবাসীকে
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসী আলমগীর হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। প্রথমে ঘটনাটি অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের হামলা হিসেবে প্রচার করা হলেও তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১ মে) উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫) ও তাদের ছেলে রাকিব (১৮)-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ধামা-দা উদ্ধার করা হয়। পরে আদালতে পাঠানো হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রী রহিমা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। আলমগীর দ্বিতীয় বিয়ে করার পর ২০০৭ সাল থেকেই তাদের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়। একসময় রহিমা সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকলেও প্রায় ৮-৯ মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে আবার তাদের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু পুরোনো বিরোধ থেমে থাকেনি।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ এপ্রিল রাতে একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আলমগীর স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ চরমে পৌঁছে যায়। পরে রহিমা বেগম ও তার ছেলে রবিউল হাসান রাকিব ঘরে থাকা ধামা-দা দিয়ে আলমগীরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তারা এলাকায় প্রচার করেন, রাতে ঘর থেকে বের হওয়ার পর অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীরা আলমগীরকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে। তবে পুলিশের কাছে তাদের বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়লে তদন্ত জোরদার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, ঘটনাটি শুরু থেকেই সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পারিপার্শ্বিক তথ্য ও ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মা ও ছেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল আলমগীর হোসেনের মরদেহ তার বাড়ির বাইরে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে অজ্ঞাত হামলাকারীর বিষয়টি সামনে এলেও পুলিশের দ্রুত তদন্তে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD