নাগরপুরে দুই কিডনি বিকল, বাঁচতে চায় বিষু ব্যাপারী

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বাবনাপাড়া (বেপাড়িপাড়া) এলাকার মৃত আব্দুল হামিদ ব্যাপারীর ২৭ বছর বয়সী ছেলে মোঃ বিষু ব্যাপারী দুই কিডনি বিকল হয়ে চরম শারীরিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তিনি ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD)-এর শেষ পর্যায় (ESRD)-এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন।
বিজ্ঞাপন
চিকিৎসা সূত্রে জানা যায়, বিষু ব্যাপারীর উভয় কিডনি প্রায় সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর হয়ে গেছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে জীবনধারণের চেষ্টা করছেন।
মৃত আব্দুল হামিদ ব্যাপারী পেশায় ছিলেন চিড়ামুড়ির টানা বিক্রেতা। বাপের সেই ঐতিহ্যবাহী পেশাকেই ধারণ করে বিষু ব্যাপারীও একই ব্যবসা শুরু করেন এবং তার সামান্য আয়ের ওপরই মা মমতাজ বেগম ও দুই বোনের সংসার চলত। বড় ভাই আলাদা হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের পুরো দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় এখন পরিবারের আয়ের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
পরিবার জানায়, এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকা চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য আরও ২ থেকে ৩ লাখ টাকার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা বাবদ প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, যা দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিষু ব্যাপারীদের নিজস্ব কোনো বসতভিটা নেই। বাবনাপাড়া ওয়ার্ডের মৃত রহম আলী মেম্বার নঙ্গিনাবাড়ি মসজিদ কমিটির জায়গা ভাড়া নিয়ে তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। সেখানেই তারা বর্তমানে কোনোমতে বসবাস করছেন।
বিষুর মা মমতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলেই ছিল সংসারের একমাত্র ভরসা। এখন সে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমরা খুব কষ্টে আছি। চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছি না। সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।”
বিজ্ঞাপন
বিষুর স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, “আমার স্বামী খুব অসুস্থ। ডাক্তার বলেছেন তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা খুব কষ্টে আছি। চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছি না। সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।”
অসুস্থ বিষু ব্যাপারী বলেন, “ডাক্তার বলেছেন আমার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। আমি বাঁচতে চাই। আবার সুস্থ হয়ে মা ও বোনদের পাশে দাঁড়াতে চাই। সবাই একটু সাহায্য করুন।”
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে নাগরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কুদরত আলী বলেন, “বিষু ব্যাপারীর পরিবার অত্যন্ত অসহায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তা তাদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। আমি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। মানবিক এই সময়ে সমাজের সহৃদয় ও বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে বিষু ব্যাপারীর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সহায়তা পাঠানোর বিকাশ (পারসোনাল): ০১৭৮৫৭৭২৬৮৫








