Logo

ফুলবাড়ীতে বিলুপ্তির পথে পাথরের জাঁতা, হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম
৫ মে, ২০২৬, ১৪:৫৮
ফুলবাড়ীতে বিলুপ্তির পথে পাথরের জাঁতা, হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য
ছবি: সংগৃহীত

কালের বিবর্তনে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ পাথরের জাঁতা। একসময় প্রতিটি গৃহস্থবাড়ির অপরিহার্য এই যন্ত্রটি এখন যান্ত্রিকতার চাপে হারিয়ে যেতে বসেছে।

বিজ্ঞাপন

কয়েক দশক আগেও ভোরের নীরবতা ভাঙত জাঁতার ঘড়ঘড় শব্দে। বাড়ির নারীরা জাঁতায় কলাই, গম ও বিভিন্ন মসলা পিষে তৈরি করতেন নানা খাবার। বিশেষ করে নবান্ন ও বিয়ের মতো উৎসবে জাঁতার ব্যবহার ছিল অপরিহার্য। এমনকি স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে কন্যাকে বিয়ের সময় জাঁতা উপহার দেওয়ার প্রথাও প্রচলিত ছিল।

কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎচালিত মিল ও বাজারজাত পণ্যের সহজলভ্যতায় জাঁতার ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এটি এখন অনেক বাড়ির এক কোণে অবহেলায় পড়ে আছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষা ফেরুষা গ্রামের বাসিন্দা মনোবালা রানী (৬৮) স্মৃতিচারণ করে বলেন, আগে ভোর হলেই সবাই মিলে জাঁতা নিয়ে বসতাম। এখন কাজ সহজ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই আনন্দ আর নেই। জাঁতাটা এখন ঘরের কোণে পড়ে থাকে।

পশ্চিম ফুলমতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক কামাক্ষা চরণ রায় বলেন, জাঁতা শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতির অংশ। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে সংরক্ষণ জরুরি।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় জীবনযাত্রা সহজ হলেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ শেকড়ের সংস্কৃতি। সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে পাথরের জাঁতা একসময় কেবল জাদুঘরের প্রদর্শনী হয়ে থাকবে।

স্থানীয়দের দাবি, গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD