টাঙ্গাইলে ৭ বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্যের গলায় দড়ি!

টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের আবক্ষ ভাস্কর্যের গলায় দড়ি বেঁধে মেলার স্টল নির্মাণের ঘটনা ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) আয়োজিত একটি মেলার শেষ দিনে এ দৃশ্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৩ মে) রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, উদ্যানে স্থাপিত সাত বীরশ্রেষ্ঠের ভাস্কর্যের সামনে নির্মিত স্টলগুলোর দড়ি টানিয়ে সেগুলো ভাস্কর্যের গলায় বেঁধে রাখা হয়েছে। এতে করে মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতির প্রতি অবমাননা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিসিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য মেলার আয়োজন করায় শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানজুড়ে স্টল নির্মাণ করা হয়। উদ্যানে থাকা সাত বীরশ্রেষ্ঠর ভাস্কর্যের সামনেও স্টল নির্মাণ করা হয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ মেলার উদ্বোধন করেন। রবিবার মেলার শেষ দিনে একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যের সামনে নির্মিত স্টলগুলোর টানা দড়ি ভাস্কর্যের গলায় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। আল আমীন খান নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বীরের গলায় মেলার দড়ি! এ লজ্জা কি শুধু টাঙ্গাইলবাসীর?’
উদীচীর টাঙ্গাইল জেলা সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর নাসিমুল ইসলামও বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ছবিতে দেখা যাচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যের গলায় স্টলের দড়ি বাঁধা, সেই দড়িতে কাপড় ঝুলছে এবং আশপাশে ময়লার স্তূপ পড়ে আছে। তার মতে, এটি শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবমাননা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আল আমীন ফেসবুকে লেখেন, ‘যাদের রক্তে এই দেশ স্বাধীন হলো, মেলার ব্যবসার জন্য আজ তাদের গলায় দড়ি। মেলা কর্তৃপক্ষ আর প্রশাসনের চোখে কি ধুলো-বালি পড়েছে?’
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অনেকেই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সরকারি এম এম আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও প্রবীণ শিক্ষাবিদ শামসুল হুদা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যের সামনে স্টল নির্মাণই অনুচিত ছিল। তার ওপর স্টলের দড়ি ভাস্কর্যের গলায় বাঁধা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জানতে চাইলে বিসিকের টাঙ্গাইল জেলার সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহনাজ বেগম বলেন, ‘মেলার ৯ দিনের মাথায় কে বা কারা এ কাজ করেছেন, জানা নেই। বিষয়টি বিসিকের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে দড়ি খুলে নেওয়া হয়েছে।’
বিজ্ঞাপন








