কোরবানির পশুর হাটে কমেছে দর, রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কায় চসিক

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর হাট প্রস্তুতি শুরু হলেও এবার অস্থায়ী হাটগুলোর ইজারামূল্যে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। স্থায়ী হাটগুলো থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব মিললেও অস্থায়ী হাটে কম দর পাওয়া এবং কয়েকটি হাটে কোনো দরপত্র জমা না পড়ায় রাজস্ব আদায় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।
বিজ্ঞাপন
চসিকের আওতাধীন ২২টি অনুমোদিত হাটবাজারের মধ্যে ছয়টি পশুর হাট থেকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আসে। তবে চলতি বছর অস্থায়ী হাটের দরপতনকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরের তিনটি স্থায়ী পশুর হাট থেকে এবার প্রায় ১০ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করছে সিটি কর্পোরেশন। এর মধ্যে নগরের সবচেয়ে বড় সাগরিকা পশুর হাট ইজারা হয়েছে ৮ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ৭৮৬ টাকায়। হাটটি নিয়েছেন ফজলে আলিম চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে মুরাদপুর এলাকার বিবিরহাট এবার ইজারা হয়েছে ৬৮ লাখ ১০ হাজার টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। গত বছর একই হাটের ইজারামূল্য ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এছাড়া পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৬ টাকায়।
তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে অস্থায়ী পশুর হাটগুলো। চসিকের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণফুলী এলাকায় অস্থায়ী হাটে সর্বোচ্চ ২ কোটি ১২ লাখ টাকার দর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মুসলিমাবাদ মাঠের হাটে দর উঠেছে মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। ওয়াজেদিয়া এলাকার হাটে কোনো দরপত্রই জমা পড়েনি।
চসিক কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২০ সালের পর এবারই অস্থায়ী পশুর হাটে সবচেয়ে কম দর পাওয়া গেছে। এতে করে সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
হাটসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, আগের তুলনায় পশুর হাটকেন্দ্রিক ব্যবসায় লাভের পরিমাণ কমে এসেছে। অনলাইনে পশু বিক্রির প্রবণতা বৃদ্ধি, ভাগাভাগি করে কোরবানি দেওয়ার সংস্কৃতি এবং সরাসরি খামার থেকে পশু কেনার প্রবণতা বাড়ায় প্রচলিত হাটগুলোতে ক্রেতার চাপ কমছে।
ইজারাদারদের অভিযোগ, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অনুমোদনহীন পশুর হাট বসায় বৈধ হাটগুলোতে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। এর ফলে ইজারা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, কর্মচারী নিয়োগ, আলোকসজ্জা ও অবকাঠামো তৈরির খরচও বেড়েছে। এতে ইজারাদারদের ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞাপন
সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আলিম চৌধুরী বলেন, বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে হাট ইজারা নেওয়া হয়েছে। এখন সেই বিনিয়োগ আদায় করা যাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত গরু না এলে লোকসানের আশঙ্কা বাড়বে বলে তিনি মনে করছেন।
অবৈধ পশুর হাট নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে চসিকের। সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন জানিয়েছেন, অনুমোদন ছাড়া কোথাও পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। অবৈধ হাট উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি জানান।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, বৈধ হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন, সিসিটিভি ক্যামেরা, পশু চিকিৎসাসেবা এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হবে।
চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, অবৈধ হাটের কারণে প্রতিবছর শুধু রাজস্ব ক্ষতিই হয় না, পাশাপাশি যানজট, চাঁদাবাজি, অপরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও সৃষ্টি হয়। এসব কারণে এবার অবৈধ পশুর হাট বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সিটি কর্পোরেশন।
কোরবানির ঈদ ঘিরে পশুর হাটে প্রস্তুতি থাকলেও বাজার ব্যবস্থাপনা, ক্রেতার আচরণে পরিবর্তন এবং অনলাইন বেচাকেনা বৃদ্ধির কারণে চট্টগ্রামের পশুর হাট ব্যবসায় এবার নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








