Logo

জীবনে একটা পিঁপড়াও মারিনি, স্বামীকে ৬ টুকরো করা সেই স্ত্রী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
শরীয়তপুর
১৬ মে, ২০২৬, ১৫:১৮
জীবনে একটা পিঁপড়াও মারিনি, স্বামীকে ৬ টুকরো করা সেই স্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে লাশ ছয় টুকরো করে হাড়-মাংস আলাদা করে তিনদিন ড্রামে ভরে রাখেন আসমা আক্তার। পরে পচা মাংস ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা পড়েন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে আসমা আক্তার নামের ওই নারীকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, চাকু দিয়ে লাশ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। তবে তিনি দাবি করেন, আমি জীবনে একটা পিঁপড়াও মারিনি। কিন্তু এ ঘটনা কিভাবে ঘটে গেল, বুঝতে পারিনি।

নিহত জিয়া সরদার শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ায় থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে পিরোজপুর জেলার আসমা আক্তারের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আট বছর আগে তাদের বিয়ে হয়, যা দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের পর আসমাকে শরীয়তপুর শহরের উত্তর পালং এলাকার সাবনুর মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় রাখা হয়। গত বছর জিয়া দেশে ফিরে এলে তারা চন্দ্রপুর বাজার এলাকার গ্রামীণ ব্যাংকের পেছনে আরেকটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে ১২ মে রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে জিয়া সরদার মারা যান। পরে লাশ গোপন করতে ছুরি দিয়ে দেহ ছয় টুকরো করে হাড়-মাংস আলাদা করা হয় এবং তিন দিন ধরে ড্রাম ও ফ্রিজে রাখা হয়।

শুক্রবার রাতে আসমা একটি অটোরিকশা ভাড়া করে ড্রামে রাখা লাশের অংশ মুলফৎগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ব্যাগে ফেলে দেন। এরপর বাকি অংশ বস্তায় ভরে শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায় ফেলে আসেন। পরে দেহের মাংস নিয়ে শহরের উত্তর পালং সাবনুর মার্কেট এলাকার পুরাতন ভাড়া বাসার একটি ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়রা সন্দেহ করে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর দেন।

বিজ্ঞাপন

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিভিন্ন স্থান থেকে লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। একই রাতে নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীর থেকে নিহতের খণ্ডিত চারটি হাত-পাও উদ্ধার করে নড়িয়া থানা পুলিশ।

নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালীন ওই নারীকে বিয়ে করেন। ভাই দেশে আসার পর আলাদা একটি জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। আমার ভাইকে হত্যা করে ড্রামে ভরে লাশ ফেলে রেখেছেন ওই নারী। পুলিশ ওই নারীকে আটক করেছে।

সাবনুর মার্কেট এলাকার রানু বেগম বলেন, আসমা পচা মাংস ফ্রিজে রাখতে এলে গন্ধ ছড়ায়। এতে আমাদের সন্দেহ হয়। তখন আমরা পুলিশকে জানাই। পরে পুলিশ এসে তার স্বামীর মাংসসহ আসমাকে আটক করে।

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত আসমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করতেন। ১২ মে রাতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। আমি বুঝতে পারিনি এতো জোরে আঘাত লাগবে। পরে চাকু দিয়ে লাশ টুকরো টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দেই। আমি জীবনে একটা পিঁপড়াও মারিনি। কিন্তু এ ঘটনা কিভাবে ঘটে গেল, বুঝতে পারিনি।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, আসমা তার স্বামী জিয়া সরদারকে হত্যার পর হাত-পা টুকরো টুকরো করে মাংস আলাদা করে ফেলেন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ড্রামে ভরে অটোরিকশা করে লাশের বিভিন্ন অংশ কয়েকটি জায়গায় ফেলে রাখেন। পরে মাংসগুলো তার আগের ভাড়া বাসায় ফ্রিজে রাখতে গেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দেন। আমরা ড্রাম খুলে বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তিনি সব কথা স্বীকার করেন।

বিজ্ঞাপন

ওসি আরও বলেন, পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করি। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

জেবি/এসডি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD