নিকলীতে কামালপুর-মহোরকোণা ব্রিজ নির্মাণে চলছে কর্মযজ্ঞ

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার মহোরকোণা ও কামালপুর গ্রামে বসবাস করেন প্রায় কয়েকশ পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে একটি মেয়াদোত্তীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এসব এলাকার মানুষ। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
বিজ্ঞাপন
নতুন একটি ব্রিজের অভাবে ব্যাহত হচ্ছিল স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ৯৮ মিটার পিএসসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু করে। বর্তমানে দ্রুতগতিতে চলছে নির্মাণকাজ।
এলাকাবাসীর আশা, ব্রিজটি নির্মাণ হলে নিকলী উপজেলার কয়েকশ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন। বিশেষ করে নিকলী সদর, মহোরকোণা, দামপাড়া ও সিংপুর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এবং মেসার্স মমিনুল হক (জেভি) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ২৬ কোটি ২৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৭৭ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর শুরু হওয়া কাজ ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও অন্যান্য কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
মহোরকোণা আশরাফিয়া আলিম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মো. হোসেন আলী বলেন, বর্তমানে যে ব্রিজটি রয়েছে সেটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতে এখানে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। নতুন ব্রিজটি নির্মাণ হলে গ্রামের মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
বিজ্ঞাপন
একই গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আউয়াল বলেন, পুরোনো ব্রিজে চলতি বছরই অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমার এক চাচাতো ভাই ও এক ভাগিনা মারা গেছে। খুব ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা পারাপার করতে হয়। নতুন ব্রিজ হলে হাজারো মানুষের উপকার হবে।
নিকলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও পানির কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞাপন
কিশোরগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত কবির বলেন, জমি অধিগ্রহণ সমস্যার কারণে এক বছর কাজ বন্ধ ছিল। বর্তমানে দুই পাড়েই কাজ চলছে। জটিলতা প্রায় শেষ হয়েছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা যাবে।








