Logo

মারমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ি
২৪ মে, ২০২৬, ১৭:২১
মারমা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ছবি প্রতিনিধি।

পার্বত্য চট্টগ্রামে মারমা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানোর প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৪ মে) সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে মারমা সম্প্রদায়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সমন্বয়ক রুমেল মারমা। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মারমা জনগোষ্ঠী যুগ যুগ ধরে শান্তিপ্রিয়, আইন মেনে চলা এবং রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, খাগড়াছড়িতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে “বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদ” প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা এবং অন্যান্য নেতারা সবসময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও উন্নয়নমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ঢাকায় অবস্থানরত আবুল হোসেন ফারুক নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারমা জনগোষ্ঠী ও সংগঠনের নেতাদের জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছেন। তার ফেসবুক আইডি “এএইচএম ফারুক” উল্লেখ করে বলা হয়, সম্প্রতি তিনি কথিত “আরাকান আর্মি” সংগঠনের সঙ্গে মারমা জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মারমা জনগোষ্ঠী কখনো কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। তারা সবসময় বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

এ সময় প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা, তার পেছনে কোনো চক্র জড়িত থাকলে তা তদন্ত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উসকানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

বিজ্ঞাপন

সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, এসব দাবির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কংজপ্রু মারমা, বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের মানিকছড়ি উপজেলা কমিটির সভাপতি আপ্রুশি মারমা, মহিলা ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলা সভাপতি ম্রাচাই মারমা, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সুইচিংহ্লা চৌধুরী (চিংহ্লা), সুধাঅং মারমা, ক্যজরী মারমা, ববি মারমাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD