ফুলবাড়ীতে কমেছে বড় গরু পালন, হাটে বেশি ছোট ও মাঝারি গরু

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পশুর হাটগুলোতে কেনাবেচা জমে উঠতে শুরু করেছে। তবে আগের বছরের মতো এবার হাটে বিশাল আকৃতির ষাঁড় গরুর উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়ছে না।
বিজ্ঞাপন
খামারিরা বলছেন, বড় গরু পালনে খরচ অনেক বেশি হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এখন তারা ছোট ও মাঝারি আকারের গরু পালনের দিকে ঝুঁকছেন।
উপজেলার রুদ্রানী এলাকার খামারি আল মামুনুর রশিদ জানান, তিনি ছয় বছর ধরে বিদেশি জাতের একটি বড় ষাঁড় গরু লালন-পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালের কোরবানির ঈদে গরুটির ওজন হয়েছিল প্রায় এক হাজার কেজি। সে সময় বিভিন্ন পাইকার গরুটির দাম সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বললেও আরও বেশি দামের আশায় তিনি বিক্রি করেননি। পরে আরও এক বছর গরুটি পালন করে শেষ পর্যন্ত চার লাখ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন। কিন্তু ওই এক বছরে খাবার ও পরিচর্যায় অতিরিক্ত প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় হওয়ায় বড় ধরনের লোকসানে পড়েন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বড় গরু পালতে খরচ অনেক বেশি। কিন্তু সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যায় না। তাই এখন আর বড় গরু পালনের সাহস পাই না।
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান খামারি আব্দুল হানিফও। তিনি বলেন, খাবারের দাম অনেক বেড়েছে। বড় গরু পালনে লাভের চেয়ে লোকসানের ঝুঁকিই বেশি। তাই এখন ছোট ও মাঝারি গরু পালনই নিরাপদ মনে হচ্ছে।
শুধু এই দুই খামারিই নন, উপজেলার অনেক খামারি ও গৃহস্থের অভিজ্ঞতাও একই। খড়, ভুসি, খৈল ও কাঁচা ঘাসের দাম বাড়ায় বড় গরু পালন এখন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ক্রেতাদের মধ্যেও বড় গরুর চাহিদা আগের তুলনায় কমেছে। অধিকাংশ ক্রেতা এখন তুলনামূলক কম দামের ছোট ও মাঝারি গরুর দিকেই ঝুঁকছেন।
বিজ্ঞাপন
খামারি আনোয়ার হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর বড় ষাঁড় গরু পালন করেছি। কিন্তু ক্রেতা কম ছিল, দামও মনমতো পাইনি। তাই এবার ছোট ও মাঝারি আকারের গরুই বেশি পালন করেছি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) উপজেলার আটপুকুর পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই জমজমাট কেনাবেচা চলছে। তবে বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর সংখ্যাই বেশি। হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগে হাটে অনেক বড় বড় গরু আসত, মানুষ দেখতেও ভিড় করত। এখন খামারিরা বড় গরু আনতে ভয় পান, কারণ দাম ওঠে না।
বিজ্ঞাপন
একই চিত্র দেখা গেছে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফুলবাড়ী পশুর হাট এবং সোমবার (১৮ মে) পার্শ্ববর্তী আমবাড়ী পশুর হাটেও। সেখানে বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি গরুর সংখ্যাই ছিল বেশি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। উপজেলায় মোট ২৭ হাজার ৫০৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ২১ হাজার ৩৬৭টি পশুর। ফলে চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকছে ৬ হাজার ১৩৬টি পশু, যা অন্য জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সারোয়ার হাসান বলেন, কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে বাজারের চাহিদা বিবেচনায় খামারিরা এখন ছোট ও মাঝারি গরু বেশি পালন করছেন। বড় গরু পালনে খরচ ও ঝুঁকি দুটোই বেশি হওয়ায় এবার বিশাল আকৃতির গরুর সংখ্যা তুলনামূলক কম।








