লোহাগাড়ায় কবরস্থানের মাঝখানে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নে একটি শতবর্ষী সার্বজনীন কবরস্থানের মাঝখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কবরস্থানটি দখল করে পারিবারিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এ নির্মাণকাজ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় আইনজীবী শিহাব উদ্দীন শতাধিক গ্রামবাসীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দিয়েছেন।
অভিযোগে কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলানা ইদ্রিস, তার দুই ভাই আবুল বশর ও আনোয়ার হোসেনসহ মোট ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর কলাউজান এলাকার খালাদাদ জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানটি দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের শতাধিক পরিবারের সার্বজনীন কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি কবরস্থান উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ পাওয়া অর্থ দিয়ে এর মাঝখানে একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগকারীদের দাবি, এই দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে কবরস্থানটিকে বিভক্ত করে একটি অংশকে নির্দিষ্ট পরিবারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে দাফন কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে এবং সামাজিক বিরোধ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবরস্থানের মাঝামাঝি অংশে দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে চুনতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর আবারও নির্মাণকাজ শুরু করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তারা নিজেদের খতিয়ানভুক্ত জমির ওপর প্রাচীর নির্মাণ করছেন। তবে কবরস্থানের মাঝখানে দেয়াল নির্মাণের যৌক্তিকতা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ বিন আখন্দ বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কাজে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে দ্রুত তদন্ত করে কবরস্থানের সার্বজনীন চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।








