Logo

পরকীয়ার টানে চলে গেছেন মা, বাবার কবরের পাশে বসেই কাটে দুই শিশুর সময়

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বরিশাল
৩ জুন, ২০২৬, ১৫:৪৬
পরকীয়ার টানে চলে গেছেন মা, বাবার কবরের পাশে বসেই কাটে দুই শিশুর সময়
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়নের হিরাধর গ্রামের দুই শিশু মেহেদী ও মাইনুলের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তা আর বঞ্চনার মধ্যে কাটছে। পরকীয়ার টানে অন্য পুরুষের হাত ধরে চলে গেছেন মা আসমা বেগম। এরপর তাদের প্রতিবন্ধী বাবা নাসির হাওলাদার বিলে শাপলা তুলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর তারা হয়ে পড়েছে অসহায়। দিনের অনেকটা সময়ই তারা বাবার কবরের পাশে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। তাদের ছোট্ট মন হয়তো এখনও বুঝে উঠতে পারেনি জীবনের কঠিন বাস্তবতা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসমা বেগম নামে ওই নারী দুই সন্তানকে রেখে পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে অন্যত্র চলে যান। স্বামীর মৃত্যুর আগেই তিনি সংসার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে সন্তানদের আর খোঁজ নেননি তিনি। তারা জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কোথায়, কে হবে তাদের আশ্রয়, কে এগিয়ে আসবে তাদের স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখতে। 

বর্তমানে দুই শিশুর একমাত্র আশ্রয় ষাটোর্ধ্ব বিধবা দাদি রিজিয়া বেগম। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বৃদ্ধা নিজের জীবনযুদ্ধ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। তারপরও নাতিদের মুখে খাবার তুলে দিতে গ্রামের বিভিন্ন মানুষের কাছে সাহায্য চান এবং

বিজ্ঞাপন

কখনও কখনও নাতিদের মুখে একমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভিক্ষা করেন।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলে দুই নাতির ভরণপোষণ, চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠেছে। পরিবারের আর কোনো উপার্জনক্ষম সদস্য না থাকায় দিন কাটছে চরম কষ্টে।

জানা গেছে, বড় ছেলে মেহেদী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। সে এবং তার ছোট ভাই মাইনুল স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। তবে দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনের কারণে তাদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অনেক সময় না খেয়ে দিন কাটাতেও হয়।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, দুই ভাই প্রায়ই তাদের বাবার কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকে। কখনও খেলতে খেলতে সেখানে চলে যায়, আবার কখনও দীর্ঘ সময় নীরবে বসে থাকে। তাদের এই দৃশ্য স্থানীয়দেরও আবেগাপ্লুত করে তোলে। অনেকেই মনে করেন, শিশুরা হয়তো এখনও বিশ্বাস করতে চায় বাবা একদিন ফিরে আসবেন।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য হলো, মাঝেমধ্যেই দুই ভাই তাদের বাবার কবরের পাশে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকে। কখনও খেলতে খেলতে কবরের পাশে চলে যায়, কখনও আবার আনমনে বসে থাকে দীর্ঘক্ষণ। হয়ত তারা এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারেনি বাবা আর কখনও ফিরে আসবেন না।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সচেতন মহল, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং সরকারি-বেসরকারি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শিশু দুটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, সময়মতো সহায়তা পেলে মেহেদী ও মাইনুলের জীবন নতুন করে গড়ে তোলা সম্ভব।

তারা মনে করেন, সামান্য সহযোগিতাই বদলে দিতে পারে মেহেদী ও মাইনুলের জীবন। নিশ্চিত করতে পারে তাদের শিক্ষা, খাদ্য ও একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ।

আজ তারা হয়তো শিশু বয়সের সরলতা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে যখন তারা নিজেদের বাস্তবতা পুরোপুরি উপলব্ধি করবে, তখন তাদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে—এই পৃথিবীতে তাদের আপনজন কে?

বিজ্ঞাপন

মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় থাকা মেহেদী ও মাইনুলের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে সমাজের একটু সহানুভূতি, দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসা। সবার সম্মিলিত উদ্যোগই পারে তাদের অন্ধকার ভবিষ্যৎকে আলোর পথে এগিয়ে নিতে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD