কুমারখালীতে ইউএনওর অভিযানে বন্ধ হলো দুই শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক অভিযানে একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২ জুন) গভীর রাতে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোর্দবন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আখতার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি টিনশেড বাড়িতে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল। এক কক্ষে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক মাদ্রাসাছাত্রীকে কনের সাজে প্রস্তুত করা হচ্ছিল। অন্যদিকে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক তরুণকে বরবেশে বসিয়ে কাজীর অপেক্ষা করছিলেন স্বজনরা। বাড়ির বাইরে চলছিল অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি ও রান্নার কাজ।
আরও পড়ুন: হোসেনপুরে অটোরিকশার চাপায় বৃদ্ধের মৃত্যু
বিজ্ঞাপন
এমন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বরের ও কনের পরিবারের সদস্যসহ অনেকেই দ্রুত সরে পড়েন। ফলে বিয়ের আয়োজন ভেস্তে যায়।
স্বজনদের দাবি, প্রায় দেড় বছর আগে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সময় দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তারা বিয়ের জন্য পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং বিয়ে না দিলে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা বিয়ের আয়োজন করতে বাধ্য হন।
কনের বাবা জানান, ছেলে ও মেয়ের অনুরোধ এবং মানসিক চাপে পড়ে তারা বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হয়েছে এবং এখন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হবে না।
বিজ্ঞাপন
ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে রাতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পরিবারের কাছ থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার মৌখিক অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অপরাধ রোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরে ছেলে ও মেয়েকে তাদের স্বজনদের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়।








