Logo

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ওয়্যারহাউসে অষ্টম পাস কর্মীকে ইনচার্জ নিয়োগ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা
১৫ জুন, ২০২৬, ২১:৫৬
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ওয়্যারহাউসে অষ্টম পাস কর্মীকে ইনচার্জ নিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে একটি পদায়নকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানের ওয়্যারহাউস ব্যবস্থাপনায় প্রচলিত চাকরিবিধি ও পদমর্যাদার নিয়ম উপেক্ষা করে একজন অষ্টম শ্রেণি পাস কর্মীকে ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সান্তাহার ওয়্যারহাউসের দায়িত্বে থাকা ইমরান আল মামুনকে ময়মনসিংহ ওয়্যারহাউসে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ময়মনসিংহে সহকারী হিসেবে কর্মরত একরামুল হককে সান্তাহার ওয়্যারহাউসের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ঘিরেই কর্মচারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সূত্রের দাবি, একরামুল হক মূলত অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ একজন কর্মচারী। তিনি পূর্বে ডিস্টিলারি বিভাগের অধীনে কর্মরত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ডেপুটেশনের মাধ্যমে ওয়্যারহাউস সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত হন। বর্তমানে তার দায়িত্ব ও পদমর্যাদা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন তুলছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীদের মতে, ওয়্যারহাউস ইনচার্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট গ্রেড ও প্রশাসনিক যোগ্যতার প্রয়োজন রয়েছে। সাধারণত এ ধরনের দায়িত্বে নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান পদায়নে সেই নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

কেরু ক্যাম্পাসের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একজন কর্মী কীভাবে নিম্ন গ্রেড থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে এলেন, সেটি নিয়ে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল ও প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, বিষয়টি স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা হলে বিভ্রান্তি দূর হবে।

এ বিষয়ে একরামুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার পদায়ন বা বদলির সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষই নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, কী প্রক্রিয়ায় তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই। বিষয়টি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষই ভালোভাবে বলতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান বলেন, পদায়ন সংক্রান্ত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জ্ঞাতসারেই সম্পন্ন হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশনের নির্দেশনা অনুসারেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান বানজাবিন বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে পদায়ন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের কারণে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের বিতর্ক সহজেই এড়ানো সম্ভব হবে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা ব্যাখ্যার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD