স্কুলে আপত্তিকর আচরণে টিসি, এরপরই খুনের শিকার মারিয়া!

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় একটি কবরস্থান-সংলগ্ন এলাকা থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিন আগে নিখোঁজ হওয়া এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে মরদেহটির মিল থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে একজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২১ জুন) বিকেলে উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকায় কবরস্থানের পাশের একটি ঝোপঝাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে এলাকাবাসী একটি ঝোপের মধ্যে মরদেহ এবং একটি স্কুলব্যাগ দেখতে পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
মরদেহের অবস্থা ও সময়ের ব্যবধানের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে কয়েক দিন আগে নিখোঁজ হওয়া এক স্কুলছাত্রীর পরিবারের দেওয়া তথ্য ও ঘটনাস্থলে পাওয়া কিছু সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য পরিচয় যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চূড়ান্ত পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ ছাত্রীর বাবা-মায়ের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ ঘটনার সূত্র ধরে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অন্য কোনো স্থানে হত্যার পর সেখানে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া এবং একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফকে সম্প্রতি তাদের আচরণসংক্রান্ত একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন স্কুল কর্তৃপক্ষ ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) প্রদান করে।
পরিবারের দাবি, ওই দিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মারিয়া আর ফিরে আসেনি।
বিজ্ঞাপন
পরদিন পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালান। পরে কোনো সন্ধান না পেয়ে সিংগাইর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তার সন্ধানে অনুসন্ধান শুরু করে।
সিংগাইর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।








