Logo

নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে মিলল শিশু সেঁজুতির মরদেহ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
সখিপুর, টাঙ্গাইল
২২ জুন, ২০২৬, ১৭:৩৬
নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে মিলল শিশু সেঁজুতির মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের সখিপুরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সেঁজুতি (৮) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরের একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শিশুটির পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

নিহত সেঁজুতি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফালু চন্দ্র মালু ও শোভা চন্দ্র দম্পতির মেয়ে। সে স্থানীয় আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন বিকেল ৪টার পর থেকে সেঁজুতির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে ওই রাতেই সখিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পর রোববার রাতে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে। একই সঙ্গে খুদে বার্তা পাঠিয়ে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণের দাবি জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপজেলা পরিষদের পুকুরে সেঁজুতির মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।

ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুক্তিপণ দাবি এবং পরে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন পুকুরে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

মেয়ের মৃত্যুতে শোকাহত বাবা ফালু চন্দ্র মালু বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

মা শোভা চন্দ্র কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সন্তানের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন হোক। আমার ছোট্ট মেয়েটিকে কে বা কারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।”

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. আহমেদ আযম খান নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকলে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সখিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন পিপিএম বলেন, “উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD