Logo

চুয়াডাঙ্গায় ‘জয় বাংলা’ লেখা বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারে চরম আতঙ্ক

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা
২৪ জুন, ২০২৬, ১৫:২৮
চুয়াডাঙ্গায় ‘জয় বাংলা’ লেখা বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারে চরম আতঙ্ক
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের রাইসার বিল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র এলাকায় বোমাসদৃশ একটি বস্তু উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বস্তুটির গায়ে ‘জয় বাংলা’ লেখা থাকায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে বিষয়টির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে রাইসার বিল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের পাশে পড়ে থাকা একটি সন্দেহজনক বস্তু নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সকাল ১০টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বস্তুটি কাছ থেকে দেখে সন্দেহ হলে দ্রুত মৎস্য কমিটির সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানায়। পরে দর্শনা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাসদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় এলাকাজুড়ে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ভাষ্য, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি প্রতিদিন বহু মানুষের যাতায়াতের স্থান। এমন একটি জনবহুল এলাকার প্রবেশমুখে সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে তারা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদসহ কয়েকজন স্থানীয় নেতা দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া বস্তুটির গায়ে ‘জয় বাংলা’ লেখা ছিল। এ কারণে তারা ধারণা করছেন, এর পেছনে নাশকতার কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ হয়নি।

এদিকে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে। বস্তুটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং এর প্রকৃতি যাচাই করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। বস্তুটি আসলে কী, কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সবদিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া বস্তুটি কার্যকর বিস্ফোরক কি না, নাকি অন্য কোনো বস্তু—সেটিও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর রাইসার বিল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত জনমনে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD