১২ বছর পর নাতি হওয়ার খুশিতে ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে নানার মিষ্টি বিতরণ

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ১২ বছর পর নাতির জন্মের আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছেন এক নানা। সাত মাস বয়সী নাতিকে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে বসিয়ে শোভাযাত্রা বের করেন তিনি। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রায় তিন হাজার মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের কাছে ঘটনাটি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের জোরমল্লিকা গ্রামের বাসিন্দা মো. হান্নানের কোনো পুত্র সন্তান নেই। তার একমাত্র মেয়ে পান্না খাতুনকে একই ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে বিয়ে দিয়েছেন। বিয়ের পর মেয়ে পান্না ও জামাই মনির হোসেনের ঘরে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এর দীর্ঘ ১২ বছর পর তাদের কোল আলো করে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান আব্দুর রহমান বিন মুসালিন। এই নাতির আগমনে নানা হান্নানের পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। নিজের পুত্র না থাকার আক্ষেপ ঘুচে যাওয়ায় তিনি এই আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
বিজ্ঞাপন
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন নানা হান্নান। ৭ মাস বয়সী নাতি আব্দুর রহমানকে ঘোড়ার গাড়িতে বসিয়ে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রাটি নানার গ্রাম জোরমল্লিকা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জামাইয়ের গ্রাম শাহবাজপুরে গিয়ে শেষ হয়। ঘোড়ার গাড়ির বহরের সাথে সাথে নেচে-গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন স্বজন ও গ্রামবাসী। এ সময় রাস্তার দুই পাশের উৎসুক জনতা হাত নেড়ে তাদের অভিবাদন জানায়।
উচ্ছ্বসিত নানা হান্নান বলেন, আমার নিজের কোনো ছেলে নেই, কেবল একটি মেয়ে। তার ঘরে এতদিন পর একটা নাতি হয়েছে, আল্লাহর কাছে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু নেই। আমার এই আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নিতেই এই ছোট্ট আয়োজন। সবাই আমার নাতির জন্য দোয়া করবেন।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া এক প্রতিবেশী জানান, হান্নান ভাইয়ের আনন্দ দেখে আমরাও আনন্দিত। এমন ব্যতিক্রমী ও সুন্দর আয়োজন আমরা আগে দেখিনি। এই ঘটনাটি গ্রামের সবার মুখে মুখে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এই আনন্দ অনুষ্ঠানে হান্নানের স্বজন ও বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী অংশ নেয়।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের অনেকেই জানান, এলাকায় এর আগে এমন আয়োজন দেখা যায়নি। নাতির জন্ম উপলক্ষে একজন নানার এমন ব্যতিক্রমী আনন্দ উদযাপন সবার মন ছুঁয়ে গেছে।
শেরকোল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বুলেট হোসেন বলেন, দীর্ঘ এক যুগ পর পরিবারটিতে পুত্রসন্তানের জন্ম হয়েছে। সেই আনন্দে শিশুটির নানা ঘোড়ার গাড়িতে শোভাযাত্রা বের করে মিষ্টি বিতরণ করেছেন। এ আয়োজন এলাকায় ভিন্নমাত্রার আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
বিজ্ঞাপন








