জীবননগরে নববধূকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, স্বামী আটক

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রাতুল নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আহত স্ত্রী মোছাম্মৎ রোজিনা খাতুন (১৮) বর্তমানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
রোজিনা খাতুন উপজেলার বালিয়ারহুদা ইউনিয়নের ষষ্ঠীতলা গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে। তার স্বামীর বাড়ি উপজেলার গড়াইটুপি গ্রামে। প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে রোজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন স্বামী রাতুল। নির্যাতনের একপর্যায়ে প্রায় দুই মাস আগে রোজিনা বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
বিজ্ঞাপন
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় রাতুল শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরিবারের লোকজন তাকে আপ্যায়ন করে রাতে থাকার ব্যবস্থা করেন। পরে গভীর রাতে, আনুমানিক রাত ২টার দিকে সবাই ঘুমিয়ে থাকাকালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রোজিনার ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে রাতুলের বিরুদ্ধে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
রোজিনার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রাতুলকে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। আহত রোজিনাকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
রোজিনার মা রেশমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চলছিল। রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: শরণখোলায় গভীর রাতে ইজিবাইকে আগুন
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হাসিব জানান, ভোর ৫টার দিকে আহত অবস্থায় রোজিনাকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর আঘাতের বিস্তারিত জানা যাবে।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, অভিযুক্ত রাতুল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ আহত নারীর সঙ্গে কথা বলেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন








