মৌলভীবাজারে অবৈধভাবে চলছে ৪৫টি ইটভাটা

মৌলভীবাজার জেলায় পরিচালিত ৪৫টি ইটভাটার সবগুলোই প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে ২৭টি ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে ইটভাটা মালিকদের দাবি, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতেই তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বিজ্ঞাপন
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) ব্যবহার এবং পাহাড়-টিলা কেটে মাটি সংগ্রহ নিষিদ্ধ। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এসব বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বিজ্ঞাপন
জেলার সাতটি উপজেলা—মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, জুড়ী, বড়লেখা ও রাজনগরে ৪৫টি ইটভাটা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ইটভাটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও সড়কের পাশে স্থাপন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও এক কিলোমিটারের মধ্যেই তিন থেকে চারটি ইটভাটা রয়েছে।
এ অবস্থায় অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
মৌলভীবাজার ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রকিব চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি উচ্চ আদালতে রিট করেছে। আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতেই ভাটাগুলো পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, জেলায় মোট ৪৫টি ইটভাটা রয়েছে এবং সবকটিই বর্তমানে বৈধ পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ২৭টির পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে। বেশিরভাগ মালিক আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের দৃষ্টিতে এসব ভাটা অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।








