Logo

সৌদিতে সহকর্মীদের ‘ভুলে’ প্রাণ হারালেন প্রবাসী যুবক

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লা
১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৪
সৌদিতে সহকর্মীদের ‘ভুলে’ প্রাণ হারালেন প্রবাসী যুবক
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করার সময় মেশিনের ভেতরে আটকে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার এক প্রবাসী বাংলাদেশি। দুর্ঘটনার সময় তিনি কারখানার একটি যন্ত্র পরিষ্কারের কাজ করছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৮টার দিকে সৌদি আরবের আল-কাসিম অঞ্চলের বুকারিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি খেজুর প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. নাদিম হোসেন (২৭) কুমিল্লার বুড়িচং পৌরসভার যদুপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সামাদ মিয়ার ছেলে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় প্রায় ১০ মাস আগে সৌদি আরবে যান নাদিম। সেখানে আল-কাসিমের বুকারিয়া এলাকার একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং কারখানায় কর্মরত ছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

স্বজনদের ভাষ্য, ঘটনার সময় একটি খেজুর প্রক্রিয়াজাতকরণ মেশিন পরিষ্কার করার জন্য নাদিম যন্ত্রটির ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় বাইরে থাকা কয়েকজন সহকর্মী তিনি ভেতরে রয়েছেন—এ বিষয়টি বুঝতে না পেরে বা খেয়াল না করে মেশিনটি চালু করে দেন। এতে নাদিম মেশিনের ভেতরেই গুরুতরভাবে আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর সৌদি আরবের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারখানার তিন কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

নাদিমের মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছানোর পর কুমিল্লার যদুপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নিহতের বাবা সামাদ মিয়া দাবি করেন, এটি কেবল দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে তার সন্দেহ রয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে প্রশাসন প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। তিনি জানান, বিদেশে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে আনার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।

এদিকে, সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শিল্পকারখানায় যন্ত্র পরিচালনার সময় নিরাপত্তা প্রটোকল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD