Logo

আইনজীবীর দিকে পেপারওয়েট নিক্ষেপ, বিচারককে প্রত্যাহার দাবিতে বিক্ষোভ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ
২৩ জুলাই, ২০২৬, ১৬:০১
আইনজীবীর দিকে পেপারওয়েট নিক্ষেপ, বিচারককে প্রত্যাহার দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীর দিকে পেপারওয়েট ছুড়ে মারার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আদালতপাড়া। ঘটনার প্রতিবাদে বিচারক মো. সুজন মিয়াকে গোপালগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার, বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন আইনজীবীদের একাংশ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় পৌনে ১১টার দিকে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের নিচ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশ দিয়ে আইনজীবী সমিতির সামনের সড়ক অতিক্রম করে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন আইনজীবী হাবিবুর রহমান, মিলন শরীফ, সোহাগ সমাজদার, রোকেয়া আক্তারসহ আরও কয়েকজন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, আদালতে কোনো আইনজীবী বা শিক্ষানবিশ আইনজীবী শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে বিচারকের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে একজন বিচারক কর্তৃক কোনো আইনজীবীর দিকে পেপারওয়েট ছুড়ে মারা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি আইনের সীমা অতিক্রম করেছে।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, একজন নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে শারীরিকভাবে আহত করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, দায় নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট বিচারককে দ্রুত গোপালগঞ্জ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইনজীবী রোকেয়া আক্তার বলেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তার দাবি, এর আগেও একই বিচারকের বিরুদ্ধে আদালতের এক মোহরারের দিকে পেপারওয়েট ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া আদালতে আইনজীবীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার দুপুরে। অভিযোগ অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২–এর বিচারক মো. সুজন মিয়া আদালত চলাকালে শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার দিকে একটি কাচের পেপারওয়েট নিক্ষেপ করেন।

বিজ্ঞাপন

এতে সাবিহা সুলতানার কপালের ডান পাশে আঘাত লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আঘাতের ফলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় আদালতের ভেতরেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

এ ঘটনায় আদালত অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিচারকদের আচরণবিধি ও আদালতের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আইনজীবীদের মধ্যে।

এদিকে গোপালগঞ্জ জুডিসিয়াল আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (নাজির) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিচারক মো. সুজন মিয়ার বিচারিক (আমলি) ক্ষমতা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD