গুগলের ভুলে অতিষ্ঠ যুবকের জীবন

গুগলে ‘বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর’ লিখে অনুসন্ধান করলে একটি মোবাইল নম্বর দেখানো হয়। অনেকেই সেটিকে সরকারি নম্বর ভেবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে ফোন করেন। কিন্তু নম্বরটি আবহাওয়া অধিদপ্তরের নয়। ফোনের অপর প্রান্তে থাকেন ঢাকার সাভারের বাসিন্দা মাসুদ রানা। গুগলের এই ভুল তথ্যের কারণে প্রায় আড়াই বছর ধরে প্রতিদিন অসংখ্য ফোনকলের ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, গত আড়াই বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়মিত তার নম্বরে ফোন আসছে। কেউ বৃষ্টির সম্ভাবনা জানতে চান, কেউ তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড় কিংবা আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস সম্পর্কে তথ্য চান। এমনকি গভীর রাতেও অনেক সময় কল আসে। শুরুতে তিনি ধৈর্য ধরে সবাইকে বুঝিয়ে বলতেন, এটি বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের নম্বর নয়। তবে একই ধরনের ফোনকল দিনের পর দিন চলতে থাকায় এখন তিনি চরম বিরক্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
তিনি বলেন, আমি কখনো আবহাওয়া অধিদপ্তরে চাকরি করিনি, এ বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণও নেই। কীভাবে আমার ব্যক্তিগত নম্বরটি গুগলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের নম্বর হিসেবে যুক্ত হলো, সেটি আমি জানি না।
ভুল নম্বরে আসা এসব ফোনকলের কারণে পরিবারের সদস্যরাও ভোগান্তিতে রয়েছেন বলে জানান তিনি। ব্যক্তিগত ও প্রয়োজনীয় ফোনকলের মাঝেও প্রায়ই আবহাওয়ার তথ্য জানতে মানুষের ফোন আসে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, একটি ভুল তথ্যের কারণে একজন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অকারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও ভুল তথ্যের কারণে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। বিষয়টি দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, মাসুদের ফোনে সারাক্ষণ কল আসতে থাকে। এতে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিয়মিত তদারকি করা হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হত না।
বিজ্ঞাপন
বিষয়টি সম্পর্কে মুঠোফোনে জানতে চাইলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নূরুল করিম বলেন, এ বিষয়ে আমাদের আগে জানা ছিল না। যদিও বিষয়টি আমাদের ওয়েবসাইট সংশ্লিষ্ট কোনো ভুল নয় তবুও যেহেতু আমাদের অধিদপ্তর সম্পর্কিত তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং গুগলে ভুল তথ্য প্রদর্শিত হয়ে থাকলে তা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শামীম কায়সার বলেন, গুগলের লোকেশন ও তথ্য সম্পাদনার সুবিধা ব্যবহার করে অনেক সময় ভুল তথ্য যুক্ত হয়ে যেতে পারে। এটি আবহাওয়া অধিদপ্তরের কোনো ত্রুটি নয়। তার ধারণা, কোনো ব্যক্তি গুগল ম্যাপে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য সংযোজনের সময় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত নম্বরের পরিবর্তে ভুলবশত মাসুদ রানার ব্যক্তিগত নম্বরটি যুক্ত করে দিয়েছেন। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হালনাগাদ করা অত্যন্ত জরুরি।








