মাগরিবের পর শিক্ষার্থীদের বাইরে ঘোরাফেরায় নিষেধাজ্ঞা

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল সামাজিক পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনীয় বাইরে ঘোরাফেরা ও আড্ডা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দিনব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাইকিংয়ের মাধ্যমে এই প্রচারণা পরিচালিত হয়। প্রচারণায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে একাধিক নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরা হয়।
মাইকিংয়ে জানানো হয়, শিক্ষার্থীরা যেন নির্ধারিত সময়ের বাইরে, বিশেষ করে মাগরিবের নামাজের পর, কোনো প্রয়োজন ছাড়া বাইরে অবস্থান না করে। অযথা রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা বা আড্ডা না দিয়ে বাড়িতে থেকে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এছাড়া পাঠদান চলাকালে শিক্ষার্থীরা যাতে বিনা কারণে বিদ্যালয়ের বাইরে দোকান, বাজার বা জনসমাগমস্থলে অবস্থান না করে, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে পাঠগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
প্রচারণায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতিও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী কিশোরদের কাছে বিড়ি, সিগারেট বা অন্য কোনো তামাকজাত পণ্য বিক্রি না করার জন্য তাদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি আইন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বর্ষা মৌসুমে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে এই প্রচারণায়। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন শিশুদের খাল, বিল, পুকুর, ডোবা কিংবা গভীর পানির আশপাশে একা যেতে না দেন। পাশাপাশি সব সময় শিশুদের চলাফেরার ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
উপজেলা প্রশাসনের ভাষ্য, শিক্ষার্থী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসব সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিভাবক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রশাসনের মতে, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত সচেতনতা থাকলে শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা এবং শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।








