শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে ৫ হিন্দু পরিবারে চাঁদার চিঠি

নাটোরের লালপুর উপজেলার বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে পাঁচটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে চাঁদা দাবির হুমকিমূলক চিঠি রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। প্রতিটি পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলেও চিঠিতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে পালপাড়ার বাসিন্দারা নিজ নিজ বাড়ির বারান্দায় এসব চিঠি দেখতে পান। প্রথমে নারায়ণ কুমার পালের ছেলে অরুণ কুমার পাল একটি চিঠি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরে আশপাশের লোকজনকে অবহিত করলে আরও চারটি বাড়িতে একই ধরনের চিঠি পাওয়া যায়। চিঠি পাওয়া অন্য পরিবারগুলো হলো অজামিল পাল, সুব্রত পাল, অধির পাল ও ষষ্ঠী পালের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পালপাড়ায় প্রায় ৫৫টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। চিঠি পাওয়ার পর থেকে পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। অনেক পরিবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
চিঠিতে ‘সেভেন স্টার কর্তৃপক্ষ’ নামে পরিচয় ব্যবহার করে লেখা হয়েছে, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। অন্যথায় পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে না জানানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্দেশ অমান্য করলে পরিবারের সদস্যদের লাশ রাস্তায় পড়ে থাকবে।
বিজ্ঞাপন
চিঠিতে উল্লেখ করা মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নম্বরটির নিবন্ধন সিলেট অঞ্চলের হলেও বর্তমানে সেটি সচল নয়। বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
খবর পাওয়ার পরই শনিবার রাতেই লালপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। ঘটনাস্থল থেকে চিঠিগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং এর উৎস ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
লালপুর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হুমকিমূলক চিঠিগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনার পর গ্রামবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু পরিবারগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। তারা প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।








