Logo

দিনে দুপুরে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি, বিকাশ এজেন্টের ৫৭ লাখ টাকা লুট

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
২ আগস্ট, ২০২৬, ২০:৪০
দিনে দুপুরে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি, বিকাশ এজেন্টের ৫৭ লাখ টাকা লুট
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে দিনের আলোতেই সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী ডাকাত দলের দুঃসাহসিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে বিকাশের দুই বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে এক প্রতিনিধি গুরুতর আহত হন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পরপরই বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ড অভিযান শুরু করলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার কিংবা জড়িতদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কের দমদমিয়া এলাকার ১৪ নম্বর সেতুর কাছে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত হন বিকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. আল আরমান (২৬)। তিনি টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অপর প্রতিনিধি একরাম হোসেনও মারধরের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, টেকনাফ বাসস্ট্যান্ড থেকে কক্সবাজারগামী পালকি পরিবহনের একটি বাসে বিকাশের দুই প্রতিনিধি নগদ অর্থ বহন করছিলেন। বাসটি দমদমিয়া এলাকায় পৌঁছালে মুখোশধারী একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে বাসের গতি রোধ করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাস থামার পর কয়েকজন ডাকাত বাসে উঠে বিকাশের দুই কর্মীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তাদের মারধর করা হয় এবং একজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর দুই কর্মীর কাছে থাকা দুটি ব্যাগ থেকে মোট ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

ওসি আরও জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বাসটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় বাসচালক ও তার সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাসের এক যাত্রী জানান, বাসটিতে প্রায় ৩০ জন যাত্রী ছিলেন। দমদমিয়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর পর ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল রাস্তার ওপর গাছ ফেলে বাস আটকে দেয়। এ সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয়। পরে পাঁচ থেকে ছয়জন মুখোশধারী বাসে উঠে সরাসরি বিকাশের প্রতিনিধিদের খুঁজতে শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা প্রথমে একজন প্রতিনিধিকে ছুরিকাঘাত করে এবং অন্যজনের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ টাকাভর্তি ব্যাগ দুটি ছিনিয়ে নেয়। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বাসটি পরে কাছাকাছি বিজিবি চেকপোস্টে গিয়ে বিষয়টি জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন।

বাসচালক ফয়েজুল করিম বলেন, ডাকাতরা শুধু গাছের গুঁড়ি ফেলেই ক্ষান্ত হয়নি, গুঁড়ির সঙ্গে বড় বড় পেরেকও লাগিয়ে রেখেছিল। ফলে বাস সরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। একই সময় কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি বাস লক্ষ্য করে অস্ত্র তাক করে দাঁড়িয়ে ছিল। তার দাবি, গত এক দশকে ওই সড়কে এমন প্রকাশ্য ডাকাতির ঘটনা দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

বিকাশের স্থানীয় এজেন্ট ও ব্যবসায়ী আবদুল করিম জানান, সকালে সীমান্ত ব্যাংক থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল গ্রাহকদের কাছে বিতরণের জন্য। এর মধ্যে ৫৭ লাখ টাকা দুই প্রতিনিধির মাধ্যমে হ্নীলা, লেদা ও হোয়াইক্যং এলাকার গ্রাহকদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল।

তিনি জানান, আল আরমানের কাছে ছিল ২২ লাখ টাকা এবং একরাম হোসেনের কাছে ছিল ৩৫ লাখ টাকা। তার ধারণা, টাকার তথ্য আগে থেকেই ডাকাতদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। অন্যথায় পরিকল্পিতভাবে দিনের বেলায় সড়ক অবরোধ করে এমন হামলা চালানো সম্ভব হতো না।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ডাকাতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD