ছয় ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

রাজগঞ্জে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ আবারও স্বাভাবিক হয়েছে। দীর্ঘ সময় রেল চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে অন্তত নয়টি আন্তঃনগর ট্রেন আটকে পড়ে এবং কয়েক হাজার যাত্রীকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে যমুনা সেতু পশ্চিমের শহীদ এম মনসুর আলী রেলস্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস স্টেশনের একটি রেলপয়েন্ট অতিক্রম করার সময় বিকট শব্দে ট্রেনটির একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে বগিটির টলি সেট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর ঢাকার সঙ্গে রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে বনলতা এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, চিলাহাটি এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস এবং পঞ্চগড় এক্সপ্রেসসহ অন্তত নয়টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়।
ঘটনার কারণে হাজারো যাত্রীর নির্ধারিত যাত্রা ব্যাহত হয়। কেউ স্টেশনে, কেউ ট্রেনের ভেতর দীর্ঘ সময় আটকে থেকে দুর্ভোগ পোহান। অনেক যাত্রী বিকল্প পরিবহনেরও সুযোগ পাননি।
বিজ্ঞাপন
ঢাকাগামী যাত্রী শিউলি বেগম জানান, তিনি রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে পৌঁছানোর পর ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হলে তিনি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন পাঠানো হয়। দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত বগি সরানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় লাইনচ্যুত বগিটি সরিয়ে জামতৈল রেলস্টেশনে নেওয়া হয়।
উদ্ধার কাজ শেষ হওয়ার পর বিকেল ৫টা ৪৩ মিনিট থেকে ওই রুটে ট্রেন চলাচল আবারও স্বাভাবিক হয়। এরপর ধীরে ধীরে আটকে থাকা ট্রেনগুলো নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার ফলে ট্রেন চলাচলের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে এবং যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তবে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার কারণে রেল যোগাযোগ স্বল্প সময়ের মধ্যেই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাকশী বিভাগের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন ভূঁঞাকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।








