Logo

সাতক্ষীরায় হাসপাতালে আগুন, নিরাপদে উদ্ধার অর্ধশতাধিক রোগী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা
৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৯:১৬
সাতক্ষীরায় হাসপাতালে আগুন, নিরাপদে উদ্ধার অর্ধশতাধিক রোগী
ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত বেসরকারি ব্লিস হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই হাসপাতাল ভবনজুড়ে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

দ্রুত ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি ও স্বেচ্ছাসেবীদের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ভবনে আটকে পড়া রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহত না হলেও রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভবনের ছাদ এবং ছয় ও সাততলার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকজন ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তি নিচে থাকা লোকজনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তাদের সঙ্গে পুলিশ, বিজিবি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ হাসপাতালের সামনে ভিড় করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

বিজ্ঞাপন

অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) এবং অন্যান্য বিভাগে চিকিৎসাধীন রোগীদের বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে ভবনের বাইরে এনে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। পরে তাদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতালের সামনে এ সময় অনেক রোগীর স্বজনকে উৎকণ্ঠিত অবস্থায় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। উদ্ধার হওয়া রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পর স্বজনদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

ব্লিস হাসপাতালের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বিশ্বাস জানান, আগুন লাগার সময় হাসপাতালের বেজমেন্টে কয়েকজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রথমদিকে ধোঁয়ার কারণে আগুনের উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সে সময় হাসপাতালে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে হাসপাতালের মাইকিংয়ের মাধ্যমে রোগী, স্বজন ও কর্মীদের দ্রুত ভবন ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ঘন ধোঁয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে আইসিইউ ও এনআইসিইউতে ভর্তি রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় কোনো প্রাণহানি ছাড়াই সব রোগীকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার সময় ওপর থেকে কাচের টুকরা পড়ে তিনি সামান্য আহত হন বলেও জানান।

সাতক্ষীরা সদর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. শিমুল রানা বলেন, চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ভবনের প্রতিটি অংশে তল্লাশি চালিয়ে নিশ্চিত করা হয় যে কেউ ভেতরে আটকে নেই। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানানো হবে বলে তিনি জানান।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে কিছু সময়ের জন্য সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ভবনে আটকে পড়া সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো নিহত বা আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD