Logo

টানা বর্ষণে হাতিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালী
৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৫৩
টানা বর্ষণে হাতিয়ায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি, যোগাযোগ ও দৈনন্দিন কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে হাতিয়া আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বে থাকা টেলিপ্রিন্টার অপারেটর মোহাম্মদ বাবলুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ৬টা পর্যন্ত হাতিয়ায় ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েক দিন ধরেই হাতিয়াসহ উপকূলীয় অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দমকা হাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে উপকূলীয় এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা, গ্রামীণ সড়ক, বাজার এবং বসতবাড়ির আঙিনায় পানি জমে গেছে। ফলে অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া কয়েকটি এলাকায় কৃষিজমিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ধানের বীজতলা, শাক-সবজির ক্ষেত এবং মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

হাতিয়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টাতেও উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি প্রশাসন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। জলাবদ্ধতা কমাতে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, কোথাও জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের আশা, বৃষ্টির তীব্রতা কমে এলে জলাবদ্ধতা দ্রুত কমবে এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে। তবে আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD