যমুনার ভাঙনে বসতভিটা হারাচ্ছে শতাধিক পরিবার, বাড়ছে আতঙ্ক

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে একের পর এক বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো। আকস্মিক এই নদীভাঙনে ইতোমধ্যে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরও কয়েকশ পরিবার সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
বিজ্ঞাপন
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের বড় লাউতারা ও ছনপাড়া গ্রাম। গত কয়েক দিনের ভাঙনে এসব এলাকার অন্তত ১৫ থেকে ১৬টি পরিবারের বসতঘর যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা মোকছেদ আলী ও ইসলাম উদ্দিন জানান, তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি মুহূর্তেই নদীগর্ভে চলে গেছে। জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে তারা এখন পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের ভাষায়, চোখের সামনে সবকিছু হারিয়ে তারা সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় ২০০টি পরিবার সরাসরি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। শুধু বসতবাড়িই নয়, গ্রামের শতবর্ষী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দা আহাম্মদ আলী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কয়েক দিনের মধ্যেই বড় লাউতারা ও ছনপাড়া গ্রামের শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বেন। একই সঙ্গে গ্রামের প্রধান সড়ক, মসজিদ, মাদরাসা এবং অন্যান্য সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতোয়ার রহমান জানান, ভয়াবহ নদীভাঙনের বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) জানানো হয়েছে। তিনি দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে পাশের বাঘুটিয়া ইউনিয়নেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন বলেন, তার ইউনিয়নে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এছাড়া স্থানীয় বাজার, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা, মন্দির এবং যোদকাশি মুন্সীকান্দি ঘোষপাড়ার বেড়িবাঁধের বড় অংশও ভাঙনের মুখে রয়েছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে কয়েকটি গ্রাম সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
শুধু জিয়নপুর বা বাঘুটিয়া নয়, উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের চরভারেঙ্গা, সুবুদ্ধি পাচুরিয়া এবং চরকাটারি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।
বিজ্ঞাপন
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে যমুনা নদীর ভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে যমুনার ভাঙন নতুন নয়। তবে চলতি বছরের ভাঙনের তীব্রতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই নদীশাসন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি মিলবে না বলে মনে করছেন তারা।








