চুনারুঘাটে তীব্র লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলে জনদুর্ভোগ চরমে

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকেরা। দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকা, ঘন ঘন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল আসায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ও রাতে মিলিয়ে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। বিশেষ করে মাগরিবের নামাজের পর লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ফলে সন্ধ্যার পর থেকেই অনেক এলাকায় নেমে আসে অন্ধকার, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে অন্ধকারের সুযোগে চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও বেড়েছে। বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে টেলিভিশন, ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন গ্রাহকেরা।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছেন না, অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ছোট ব্যবসাগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী আসমা বেগম জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি দেখেন, ব্যাংকের সার্ভারে বিলের পরিমাণ কাগজে উল্লেখিত বিলের চেয়ে বেশি দেখাচ্ছে। পরে বাধ্য হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে সংশোধন করে বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ছোট সন্তান নিয়ে প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটানো অত্যন্ত কষ্টকর।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আরেক গ্রাহক ফরিদ মিয়া অভিযোগ করেন, গত তিন মাস ধরে তার বাড়িতে কোনো বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পৌঁছায়নি। অথচ হঠাৎ লাইনম্যান এসে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা দিদার মিয়া বলেন, দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও সংযোগ আসে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য। এতে পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকার বিকাশ ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তাদের ভাষায়, বর্তমানে চুনারুঘাটে বিদ্যুৎ যায় না, বরং মাঝেমধ্যে কিছু সময়ের জন্য আসে। বিদ্যুৎ সেবা না পেলেও কয়েক গুণ বেশি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. মনজুরুল আলম বলেন, ৩৩ কেভি গ্রিড লাইনে ত্রুটি এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।








