ধামরাই-সিঙ্গাইর সংযোগে সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের মানুষ

রাজধানী ঢাকার অদূরে ধামরাই ও মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার সংযোগস্থলে ধলেশ্বরী নদীর একটি শাখার ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন প্রায় ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।
বিজ্ঞাপন
ঝুঁকিপূর্ণ একটি বাঁশের সাঁকোই দুই উপজেলার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীরা।
স্থানীয়দের মতে, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলের একপাশে রয়েছে ঢাকা জেলার ধামরাই ও সাভার উপজেলা, অন্যপাশে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা।
মাঝখানে ধলেশ্বরীর শাখা নদী থাকায় দুই পারের মানুষের যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করছেন।
বিজ্ঞাপন
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক দশক ধরে স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে হালকা যানবাহনও ওই সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
শিক্ষা খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নদীঘেরা এ অঞ্চলে ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫টি কিন্ডারগার্টেন ও ৩টি মাদ্রাসা থাকলেও যাতায়াতের দুরবস্থার কারণে ফোর্ডনগর উত্তরপাড়াসহ আশপাশের এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। এছাড়া সাভারের বিভিন্ন কলেজ ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত চার শতাধিক শিক্ষার্থীর নিয়মিত যাতায়াতও এই সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল।
বিজ্ঞাপন
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। নদীর ওপারের ১৩টি গ্রামে কোনো হাসপাতাল বা উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্র না থাকায় জরুরি চিকিৎসার জন্য সাভারের হাসপাতালগুলোই একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেতু না থাকায় মুমূর্ষু রোগী কিংবা প্রসূতি মায়েদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ হোসেন বলেন, একাধিকবার সেতু নির্মাণের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো কাজ শুরু হয়নি। রাজধানীর এত কাছে থেকেও মানুষকে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণই এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন জানান, এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।








