Logo

২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন জামায়াত নেতা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ভোলা
২ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:৫৮
২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন জামায়াত নেতা
ছবি: সংগৃহীত

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার এক মৃত শিক্ষকের পরিচয়, ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রায় ২০ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা প্রশাসন ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত মো. মহিউদ্দিন তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারির দায়িত্বও পালন করছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, একই নামের সুযোগ নিয়ে তিনি মৃত জুনিয়র শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের ইনডেক্স নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থ উত্তোলন করে আসছেন।

ঘটনাটি জানতে পেরে মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মো. ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৩/০৩/১৯৯৪ তারিখে মো. মহিউদ্দিন জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। যার ইনডেক্স নং ৩৬৪৭৭৬, ব্যাংক হিসাব নং ৪৬০৬, এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়

বিজ্ঞাপন

এরপর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজ অফিস সহকারী মো. মহিউদ্দিন পিতা আছমত আলী মহাজন, যার ইনডেক্স নং ৬০২৭৮২, ব্যাংক হিসাব নং ৪৫৭৭, গত ০৭/০৯/২০০৬ তারিখে বিধি বহির্ভূত ভাবে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তিনি বর্তমানে তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন চালু হওয়ার পর তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধিবহির্ভূতভাবে পূর্বের ইনডেক্স ব্যবহার এবং নামের মিল থাকায় মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন শিক্ষক মহিউদ্দিন। এদিকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ নিলেও বেতন ভোগ করছেন (নিয়োগ বিহীন) জুনিয়র শিক্ষক পদের। এছাড়া ২০০৭ সন থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত এমপিও সিটে উক্ত মহিউদ্দিনের ইনডেক্স এর বিপরীতে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট ৪৬০৬ পাওয়া যায়। যাহা সম্পূর্ণ জাল-জালিয়াতি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হিসাব নাম্বার (৪৬০৬) এক হলেও ওই একাউন্ট থেকে বেতন তোলা হয়নি। নিয়োগ কালে কোন রকম তথ্য গোপন করা হয়নি। তবে রুপালী ব্যাংক তজুমদ্দিন শাখায় ব্যক্তিগত হিসাব থাকলেও কোন এমপিও কপিতে তার ৬০২৭৮২ ইনডেক্স এর বিপরীতে একাউন্ট দেখাতে পারেননি।

এদিকে ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতে ইনডেক্স নং ৬০২৭৮২ এর বিপরীতে মৃত শিক্ষক মহিউদ্দিনের হিসাব নাম্বার ৪৬০৬ পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিয়ে মো. ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাও. নুরজ্জামান বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসার শিক্ষক এমপিও সিটে ৬০২৭৮২ ইনডেক্স বিপরীতে ৪৬০৬ নং একাউন্টে সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিনের নাম রয়েছে। একাউন্ট সংশোধনের জন্য কাগজ পত্র প্রস্তুত করা হইতেছে। আমি সুপার হওয়ার পর বিষয়টি অবগত হয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত আকারে জানিয়েছি।

বিজ্ঞাপন

তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD